নিজস্ব প্রতিবেদক।।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিংয়ের নামে টাকা আদায়ের ঘটনায় নামেমাত্র কয়েকটি স্কুলকে শোকজ করা হয়েছে। বুধবার (৮ নভেম্বর) অভিযুক্ত সাত বিদ্যালয় প্রধানকে শোকজ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা সাক্ষরিত ওই চিঠিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে। অথচ চন্দনাইশের ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯ থেকে ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে না।
শোকজ করা সাত প্রতিষ্ঠান হল— গাছবাড়িয়া মমতাজ বেগম স্কুল এন্ড কলেজ, পূর্ব সাতবাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, শুচিয়া রামকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়, হাশিমপুর মনির আহমদ কামাল উদ্দিন আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়, কেশুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, খাঁনদীঘি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সাতবাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বরকল এসজেড উচ্চ বিদ্যালয়, বরমা ত্রাহিমেনকা উচ্চ বিদ্যালয়, দিয়াকুল স্কুল এন্ড কলেজ, কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয় ছাড়া বাকিসব বিদ্যালয় অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
গাছবাড়িয়া মমতাজ বেগম স্কুল এন্ড কলেজের এক অভিভাবক বলেন (শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হল না), সরকারি ফি দেখেছি অনেক কম। কিন্তু আমার কাছ থেকে ৩ হাজার ১৪০ টাকা নিয়েছে। রশিদ খুঁজলে একটানে ৩১৪০ টাকা আদায়ের একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছে। কেন এতটাকা প্রশ্ন করলে তারা আমাকে নানা খাতের কথা বলে রেগে যান।’
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কোচিংয়ের নামে টাকা আদায় ও ফরম ফিলাপের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ইউএনও ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সরেজমিনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে বললেও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গণমাধ্যমে নাম আসা বিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দায় এড়াচ্ছেন। এও অভিযোগ রয়েছে— শিক্ষকদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উত্তোলন করা অতিরিক্ত টাকার একটি অংশ ‘উৎকোচ’ হিসেবে তার কাছে আসবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, কোচিং ও ফরম ফিলাপের নামে যেসব অর্থ তোলা হচ্ছে তা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের ‘ইচ্ছেমাফিক’ খরচ হবে। এর নামমাত্র একটি অংশ কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়া শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা পাবেন। একটি অংশ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ মানি’ হিসেবেও দেওয়া হবে।
তবে এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রতন সাহা বলেন, অভিযোগ আসা ৭টি বিদ্যালয়কে শোকজ করা হয়েছে। রবিবার থেকে আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে ফরম ফিলাপ বাবদ কতটাকা আদায় করা হচ্ছে তা যাচাই করবো। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। নিলে তা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। তাদের শাস্তিরও আওতায় আনা হবে। ‘ম্যানেজ মানি’র অভিযোগের বিষয়টি ভিত্তিহীন জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো কারা বলে, শিক্ষা কর্মকর্তা কি বসে আছে? ম্যানেজ করা এতো সহজ কথা! এগুলো ভিত্তিহীন, উড়ো কথাবার্তা।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি আমি নিজে পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্তে যদি ওনার (মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার) সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, ওনার কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ওনার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে সদ্য যোগ দেওয়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এ এম এম মুজিবুর রহমান সিভয়েসকে বলেন, কোনোভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কোচিং, ফরম ফিলাপের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়, দায়সারা তদন্তের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্যাদিগুলো পাঠালে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
