এইমাত্র পাওয়া

ঘুষ না দিলে ১ পাতা চেক দেন! শিক্ষিকাকে শিক্ষা কর্মকর্তা

সুনামগঞ্জঃ  জেলার  শাল্লা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে একজন সহকারী শিক্ষিকার স্বামী তন্ময় দেব ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামকে ঘুষ না দিলে শিক্ষকদের চিকিৎসা ছুটি মঞ্জুর করেন না। এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির (স্লিপ) বরাদ্দ থেকেও ওই কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয়। বিদ্যালয় প্রতি ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে তিনি স্লিপের বিল অনুমোদন করেন না। স্কুলের কোনো শিক্ষক কোনো অসুবিধার কারণে একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষকসহ অফিস স্টাফদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করেন তিনি। গত দুই থেকে তিন মাস আগে এক প্রধানশিক্ষককে নিয়মবহির্ভূতভাবে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেন। পরে শিক্ষক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের চাপে পড়ে অব্যাহতি আদেশ তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, আমি বিগত ১৫/২০ দিনের মতো অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম। পরে সুস্থ হয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে স্কুলে যোগদান করার পর জানতে পারলাম আমার বেতন ও পূজার বোনাস বন্ধ। পরে সালাম স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্যার বলেন, আপনার বেতন-বোনাস ছেড়ে দিবো যদি আপনি আমাকে ২৫ হাজার টাকা দেন। না হয় আমার করার কিছু নেই। তখন শিক্ষিকা বলেন, স্যার আমার এতো টাকা নেই। তাছাড়া আমার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ঋণ করেছি। দয়াকরে আমার বেতন-বোনাস ছেড়ে দিন। তখন স্যার বলেন, এভাবে হবে না। তাহলে আরেকটা শর্তে আপনার বেতন ছেড়ে দিবো। আপনার ১ পাতা চেক দেন আমি চেক দিয়ে আমার পরিচিত সুদের কারবারি উজ্জ্বল মিয়ার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা সুদে নিয়ে নিবো। বেতন হলে উজ্জ্বল মিয়া ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ২৮ হাজার টাকা রেখে বাকি টাকা আপনাকে ফেরত দিয়ে দিবে। তখন আমি নিরুপায় হয়ে আমার বেতন রেগুলার করার জন্য সালাম স্যারকে ১ পাতা চেক দিতে বাধ্য হলাম।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করার স্বত্বেও উনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল বলেন, আমি অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১১/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.