এইমাত্র পাওয়া

৫০০ বছর পরেও শেখ হাসিনা থাকবেন: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকাঃ  শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, ‘শেখ হাসিনা নামটিই সকল গুণাবলী ধারণ করে। বঙ্গবন্ধু কন্যার মধ্যে সকল গুণাবলী নিহিত। কী অসীম মমতায় তিনি বড়দের সম্মান করেন। শিক্ষককে কী করে সম্মান করা যায় সেটি তার মধ্যে ভীষণভাবে রয়েছে। শেখ হাসিনা নামটুকুই সব কিছু ধারণ করে। এমন একটা সময় আসবে, যখন শেখ হাসিনা নামে সারা বিশ্বের মানুষকে আমরা পুরস্কৃত করতে পারব। ৫০০ বছর পরেও শেখ হাসিনা থাকবেন। তার নাম তখন অনেকেই গর্ব করে বলবেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিনে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সাহসী নেতৃত্ব’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন মানবিক গুণাবলী উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সকল কিছু বঙ্গবন্ধুকন্যার মাথার মধ্যে। তিনি কোনো কিছুই ভোলেন না। তাঁর স্মরণশক্তি এত বেশি, যা বলে শেষ করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালে বৃষ্টিস্নাত দিনে যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরলেন তখন মানুষের ঠাঁই ছিল না। অসুস্থ থাকার পরেও আমার বাবা তাঁর প্রিয় হাসিনাকে দেখতে যাবেন কিন্তু বনানী যাওয়ার পর আর যেতে পারলাম না। লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত ছিল।

তিনি সেদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পিতার অসমাপ্ত কাজ তিনি সমাপ্ত করবেন। সেটি তিনি পূরণ করেছেন। উন্নত জীবন দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তার সব তিনি করছেন। শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেছেন এবং স্বপ্ন দেখিয়েছেন।’

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াল ঘটনা বাঙালির জন্য মর্মান্তিক, দুঃখজনক ও ভয়ানক অভিজ্ঞতা। যত উন্নয়নেই আমরা যাই না কেন, এই ব্যথা ও কলঙ্ক থেকে বাঙালি কোনো দিন মুক্তি পাবে না। সেদিন বেলজিয়ামে দুই বোন ছিলেন। ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। অত্যন্ত কঠিন দিন পার করেছেন। এসব দিনের কথা হয়তো বা কিছু কিছু শুনেছি। অনেক অজানা গল্প রয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা যদি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে না আসতেন, আজকের বাংলাদেশে কী হতো! বিরাজ করত গণতন্ত্রহীন, সামরিক শাসনের জাঁতাকল। পঁচাত্তর থেকে শুরু করে নব্বইয়ের ভোট এবং ভাতের অধিকারের স্লোগান তিনি নিশ্চিত করেছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুকন্যা ফিরে না এলে বাংলাদেশ আজ মিয়ানমার এবং পাকিস্তানের চেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকত। এক দিনে যে দেশের সকল জেলায় বোমা হামলা হয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা হয়, উদীচীর অনুষ্ঠানে হামলা হয়, রমনার বটমূলে হামলা হয়। সব কিছুর জবাব শেখ হাসিনা এক হাতে দিয়েছেন। তিনি যদি ফিরে এসে জঙ্গিবাদ নির্মূল না করতেন, তাহলে বাংলাদেশ হতো জঙ্গিবাদের উদার ক্ষেত্র। গণতন্ত্র আর অর্থনৈতিক দুর্দশায় শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশি দুর্দশায় পড়তাম আমরা।’

একটি মানুষ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ- এসব আলোর পথ নিশ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে দেশের বিশিষ্ট এই সমাজচিন্তক বলেন, ‘তাঁর অনুপস্থিতিতে দেশ ক্রমাগত অন্ধকারে যেত। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা আমাদের কাছে পবিত্র আমানত। সেই আমানত রক্ষা করা আমাদের অঙ্গীকার। আজ পরাশক্তি স্যাংশন এবং ভিসানীতির কথা বলছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের আয়োজন থেকে তাদেরকে বলতে চাই- গণতন্ত্রের প্রতি যদি কোনো আঘাত আসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে দেশের শিক্ষাবিদ এবং বুদ্ধিজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিহত করবে। যেকোনো মূল্যে দেশের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছে শিক্ষাপরিবার।’

সভায় আলোচক ছিলেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন। এ ছাড়া আলোচনাসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নিজামউদ্দীন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৯/০৯/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.