এইমাত্র পাওয়া

মোরেলগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকে তালা স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত মানুষ

এম. পলাশ শরীফ।।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ভাটখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে দু’দিন দিচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। বাকি ৪ দিন মুল ফটকে ঝুঁলছে তালা। সিমান্তবর্তী তিন ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের ৬ গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নেই তদারকি।

(১৯ আগষ্ট) শনিবার উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের ভাটখালী কমিউনিটি ক্লিনিক সরেজমিনে দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে দেখা যায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের মূল ফটকে ঝুঁলছে তালা। স্থানীয়রা বলছেন, সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার ক্লিনিকটি খোলা থাকে। শনিবারতো সরকারি ছুটি। ক্লিনিক খোলা থাকবে কেন?

এ ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচ সিপি) এমদাদুল হক, স্বাস্থ্য সহকারি (এইচএ) রিয়াজুল হক, পরিবার পরিকল্পনা সহকারি (এফডবিøউ এ) আইরিন আক্তার সালমা কর্মরত ৩ জনই অনুপস্থিত, ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ। পুটিখালী ইউনিয়নের ভাটখালী গ্রামে ২০১৭ সালে কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্থাপিত হলেও স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন সিমান্তবর্তী পঞ্চকরণ ও তেলিগাতি ইউনিয়নের ভাটখালী, গজালিয়া, তেলিগাতি, মহিষ চরনী ও খারইখালী গ্রামসহ ৬ গ্রামের ৩/৪ হাজার মানুষ। প্রতিদিন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী মা সহ শত শত মানুষ। সপ্তাহে ৪দিন বন্ধ থাকায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের।

ভাটখালী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম (৪৮), খোদেজা বিবি (৫৭), মহিষ চরনী গ্রামের নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৫২), গজালিয়া গ্রামের আবু বকর শেখ (৩৭), খারইখালী গ্রামের রাব্বি শরীফ (১৯) বলেন, শনিবার তো সরকারি বন্ধ!। ক্লিনিক খুলবে কেনো। এমনিইতো ২দিন খোলা থাকে। কোন সময় ডাক্তার আসে, আর কোন সময় যায় টেরই পাইনা।

কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত সিএইচ সিপি এমদাদুল হক ক্লিনিক সপ্তাহে দু’দিন খোলার বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন, শুক্রবার সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিনই তিনি ক্লিনিকে আসেন। শনিবার পারিবারিক কাজে দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন। সে কারনে ক্লিনিক বন্ধ ছিল। স্বাস্থ্য সহকারি (এইচএ) রিয়াজুল হক সপ্তাহে রবি, সোম ও বৃহস্পতিবার থাকছেন, পরিবার পরিকল্পনা সহকারি (এফডবিøউ এ) আইরিন আক্তার শনি, মঙ্গল ও বুধবার ক্লিনিকে আসেন। এ দায়িত্ব পালন করার পরেও তাদের দু’জনের ফিল্ড রয়েছেন।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, “শেখ হাসিনার অবদান, কমিউনিটি ক্লিনিক বাচাঁয় প্রাণ” ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলে এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৫২ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য পরিদর্শক (এইচআই) মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, ভাটখালী কমিউনিটি ক্লিনিক শুধু নয়, প্রতিটি ক্লিনিকই সপ্তাহে ৬দিন খোলা থাকবে। দায়িত্বরত সিএইচ সিপি ছুটিতে ছিলেন না। তার পরেও বন্ধ রাখা হয়েছে কেন। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।

এ সর্ম্পকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় বলেন, ভাটখালী কমিউনিটি ক্লিনিকটি বন্ধ থাকার বিষয় তিনি অবহিত নন। তবে, সিএইচ সিপি ছুটিতে রয়েছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এ উপজেলায় ৫২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরিদর্শ, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য কর্মী একাধিক পদে জনবল সংকট রয়েছে। এ বিষয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম তারেক সুলতান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি গ্রামীন জনপদের সাধারণ মানুষের দ্বার প্রান্তে স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেওয়ার এটি একটি যুগান্তকারি পদক্ষেপ। ক্লিনিক বন্ধ রেখে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করার কারও কোন সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। #


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.