সভাপতি-প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পটুয়াখালীঃ জেলার সদর উপজেলার আউলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতিসহ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে উক্ত অভিযোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কুলের দাতা সদস্য আউলিয়াপুর ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিদ্যালয়ের আয়কৃত অর্থ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি কমিটি গঠন করে বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে খরচ করা হতো এবং উদ্বৃত্ত টাকা বিদ্যালয়ের রূপালী ব্যাংক নিউটাউন শাখার ৯৮৮০নং অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। বর্তমান এডহক কমিটি গঠনের পর চলতি বছরের গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের এসএসসি ফরম পূরণ, ভর্তি ফি, পুনঃভর্তি ফিসহ অন্যান্য আয়ের দুই লাখ টাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা উক্ত অ্যাকাউন্টে জমা করেন। তখন ব্যাংকে বিদ্যালয়ের তহবিলে মোট জমা ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৩ টাকা ১৩ পয়সা। অজ্ঞাত কারণে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মিলে একইদিনে (১৬ই ফেব্রুয়ারি) দুই লাখ টাকা ব্যাংকের রিভার্স দেখিয়ে জনৈক আবু জাফর মো. সালেহ এর নামে স্থায়ী দাতা হিসেবে জমা প্রদান করেন। এরপর কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মাত্র ৭ দিন পর ২৩শে ফেব্রুয়ারি চেক নং-৯৮৯৪৭৪৯ এর মাধ্যমে প্রথমে দুই লাখ এবং চেক নং- ৯৮৯৪৭৫০ এর মাধ্যমে একইদিন আরও ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তসরুপ করেন।

পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ১৪ই মার্চ ২০২৩ইং তারিখ চেক নং-১৭৮১৯১ এর মাধ্যমে আবারো ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর ১৬ই এপ্রিল ২০২৩ইং তারিখ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি গোলাম সরোয়ার বাদলের নামে স্থায়ী দাতা হিসেবে দুই লাখ টাকা জমা করা হয়। এ টাকা জমা দেয়ার একদিন পর চেক নং-১৭৮১৯২ এর মাধ্যমে জমাকৃত দুই লাখ টাকা তুলে নেন সভাপতি গোলাম সরোয়ার বাদল ও প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। পরবর্তীতে মে মাসে আরও ২০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাসান বলেন, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মিলে বিদ্যালয়ের কোনো দৃশ্যমান কাজ না করে ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিদ্যালয়ে সব ডকুমেন্ট আছে, স্কুলে আসেন, আমাদের সব ডকুমেন্ট দেখতে পাবেন।

সভাপতি গোলাম সরোয়ার জানান, আমি যখন সভাপতি হয়েছি, তখন স্কুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৮ টাকা ছিল। পরবর্তীতে স্কুলের প্রয়োজনে স্কুলের চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। আত্মসাতের বিষয়টি আমি দেখছি না।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাসানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আউলিয়াপুর এলাকার সমাজসেবক মো. বাদশা মৃধা, কাজী হাবিবুর রহমান, মো. মোকছেদুল্লাহ ও মো. রিয়াদ হোসেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১০/০৮/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.