নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. শাহজাহান আলম সাজু বলেছেন অতীতে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, মূল বেতনের ৫ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় ইনক্রিমেন্ট, ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা, স্বল্প হলেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ বহু দাবি পূরণে সক্ষম হয়েছি।
সোমবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বাশিপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. শাহজাহান আলম সাজু বলেন, অতীতে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, মূল বেতনের ৫ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় ইনক্রিমেন্ট, ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা, স্বল্প হলেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ বহু দাবি পূরণে সক্ষম হয়েছি। সর্বশেষ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ ‘৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা’ও প্রাপ্ত হয়েছেন। এই প্রাপ্তিতেও স্বাশিপ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের দুরবস্থা পরিহারকল্পে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের জন্য প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের তৎকালীন সচিব মো. সোহরাব হোসাইন ও কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব এবং স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার উপস্থিতিতে কল্যাণ ও অবসর বোর্ডের জন্য ৭৫৭ কোটি, ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের জন্য ৫৩১ কোটি টাকা, ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতার জন্য ১৭৭ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা এবং চেক তুলে দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বেসরকারি শিক্ষকদের উন্নয়নে সরকারের এই মহতী উদ্যোগের জন্য সরকার বিশেষত প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি চক্রান্তের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু কর্নফুলী টানেল, পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মেট্রোরেল, বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, এক্সপ্রেসওয়ে এবং অসংখ্য ফ্লাইওয়ার নির্মাণ করেছে, সে সরকারের শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের সক্ষমতাও আছে এবং এ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা সম্ভব। প্রয়োজন একটি মেগা প্রকল্প এবং তা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ।
স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের দাবিগুলো হলো- জাতীয়করণের সুষ্ঠু ও কার্যকর পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পাদনের নিমিত্তে গঠিত দুইটি কমিটির কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা; ইনডেক্সধারী, এনটিআরসিএ নিবন্ধনকৃত শিক্ষকদের শূন্য পদে বদলি বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে গণবিজ্ঞপ্তি; বর্তমান বাজেট থেকেই পুর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান, সুনির্দিষ্ট হারে বাড়ি ভাড়া ও মেডিকেল ভাতা বৃদ্ধি; প্রধান শিক্ষকদের স্কেল বৈষম্য দূরীকরণ, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন সমন্বয় সাধন, অনার্স-মাস্টার্স এবং স্বতন্ত্র এবতেদায়ী শিক্ষকদের এমপিও প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সভাপতি ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। এতে অন্যদের মধ্যে স্বাশিপের সহ-সভাপতি প্রফেসর মো. সাজিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান, সহ-যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোস্তাক উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

