মাদারীপুরঃ শিবচরের সুমাইয়া আক্তার এবং ময়মনসিংহের ভালুকার তরিকুল ইসলাম তারেক—দুজনই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে। এ নিয়ে তাদের খুশির সীমা নেই। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তারা ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে কি না—এই দুশ্চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছে তাদের।
সুমাইয়া আক্তার শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের লপ্তিকান্দি গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মো. হবি মোল্লা ও তাসলিমা বেগমের মেয়ে।
সে শিবচরের পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।
জানা যায়, পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে শিবচরের চরজানাজাত থেকে লপ্তিকান্দিতে এসে বছরে পাঁচ হাজার টাকা খাজনায় এক টুকরা জমি ভাড়া নিয়ে দোচালা ঘর তুলে বসত গড়ে সুমাইয়ার পরিবার। বড় বোনকে বাচ্চা হওয়ার পর স্বামীর বাড়ি থেকে এসে আশ্রয় নিতে হয়েছে এই বাড়িতে। দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারটির কাছে লেখাপড়া স্বপ্নের মতো মনে হলেও সুমাইয়ার ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
প্রায় প্রতিদিন সে এক ঘণ্টার মতো হেঁটে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করত। কোনো কোনো দিন বাবা বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতেন। সুমাইয়া নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা-বাবা বিয়ে ঠিক করলে প্রধান শিক্ষকের সাহায্যে তা ঠেকানো হয়।
মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমরা কোনো দিন সুমাইয়াকে ভালো কোনো খাবার খাওয়াতে পারিনি।
আমার মেয়ের স্বপ্ন অনেক বড়। কিন্তু স্বপ্নপূরণের সাধ্য আমাদের নেই। তাইতো একবার বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্কুলের হেডস্যার দিতে দেননি। ওর লেখাপড়া চালাতে অনেক সহযোগিতা করেছেন স্যাররা।
এখন ওর লেখাপড়া কিভাবে চালাব!’
সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘আমার ইচ্ছা ঢাকায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু মা-বাবার পক্ষে এত খরচ চালানো সম্ভব নয়।’
পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সামসুল হক বলেন, ‘বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়ালে সুমাইয়া ভবিষ্যতে অনেক বড় স্থানে জায়গা করে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।’
নবম-দশম শ্রেণিতে ক্লাস নিত তরিকুল
তরিকুল ইসলাম তারেক ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (মৃত) ও তারা বানুর ছেলে। সে উপজেলার আঙ্গারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে সে মূলত স্থানীয় এম রহমান আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। বিদ্যালয়টির পাঠদানের অনুমতি না থাকায় সে আঙ্গারগাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এম রহমান আইডিয়ালে পুরনো দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তরিকুল নবম ও নতুন দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিষয়ে কখনো কখনো ক্লাসও নিত। পিইসি পরীক্ষায়ও গোল্ডেন জিপিএ ৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল তরিকুল।
তিন ভাই-বোন ও মাকে নিয়ে তরিকুলদের সংসার। ভিটাবাড়ি ছাড়া ফসলি তেমন জমি নেই তাদের। তার মা তারা বানু অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দিনমজুর বাবার মৃত্যুর পর মায়ের উপার্জন, বিধবা ভাতা এবং এক বোনের প্রতিবন্ধী ভাতায় কোনোমতে চলে তাদের সংসার। চাচারাও তাদের মাঝেমধ্যে সহায়তা করেন।
তরিকুল জানায়, সে ঢাকার নটর ডেম কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে সে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়।
মা তারা বানু জানান, প্রথম শ্রেণি থেকেই এম রহমান আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা বেগমের সহায়তায় তাঁর ছেলে লেখাপড়া করেছে। কোনো বেতন তিনি নেননি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/০৮/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

