নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ আগামীকাল ২০ জুলাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। জাতীয় নির্বাচনের কারণে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে গ্রীষ্মকালীনএ ছুটি বাতিল করেছে সরকার। তবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে এ ছুটি আসছে শীতের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বুধবার (১৯ জুলাই) বেসরকারি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বৈঠকে এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদান ও মূল্যায়ন শেষ করতে হবে। এছাড়াও একই সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে বিদ্যালয়গুলো সকল বার্ষিক পরীক্ষা।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে নভেম্বরেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে। সেজন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মের ছুটি বাতিল করা হলো।’ গ্রীষ্মের ছুটি বাতিল হলেও শীতকালীন ছুটি বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সম্ভব নয়। জাতীয় পর্যায়ে গঠিত দুটি কমিটি দেশের বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণ সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। এর মধ্যে একটি কমিটি আর্থিক সম্ভাব্যতা এবং অন্যটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যাচাই করে দেখবে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, নির্বাচনের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিটি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া বিশেষভাবে এই মুহূর্তে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক এই অবস্থার মধ্যে আর্থিক বিরাট একটি বোঝা কাঁধে নেয়া কোন সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। নির্বাচন, আর্থিক সমস্যা মাথায় রেখে কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে সম্ভব এবং কিভাবে করলে আমাদের শিক্ষা এবং শিক্ষকের মানোন্নয়ন সম্ভব; কিভাবে এই বিষয়টি করতে পারবো এবং তার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা কতটুকু এগুলো বিষয় দেখার জন্য দুটি কমিটি আমরা করে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা যে জীবন মানোন্ননের লক্ষ্য জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন, এখানে যাতে কোন বৈষম্য না থাকে সেটি গবেষণার বিষ,— এজন্য একটি কমিটি করে গবেষণা করে দেখার জন্য তাদের দায়িত্ব দেয়া হবে। আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিষয়টি গবেষণা করে দেখার জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করে দেয়া হবে; তারা দেখবে এতে আমাদের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী কতদূর আগানো সম্ভব বা কতদ্রুত এটি আমরা দিতে পারব।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ বাবদ অনেক খরচই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানসমূহে দেয়া হয়, কিন্ত সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের আয় থেকে কোন অর্থ নেয় না; এই পুরো ব্যাপারটি গবেষণা করে দেখারও বিষয় আছে।
এদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে টানা ৯ম দিনের মতো আন্দোলন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তারা। এর আগে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আশ্বাস দিলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা। তাঁরা দাবি করেন, আশ্বাস নয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৯/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৯/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

