চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আলী আকবর। করপোরেশনের কর্মচারীরাই অভিযোগ করছেন, কখনও ঠিক সময়ে তিনি অফিসে আসেন না। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবন কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় তাঁর ৪১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শুধু আকবরই নন, সরকারি অফিস সময়সূচি সকাল ৯টায় হলেও সে সময় নগর ভবনে গিয়ে পাওয়া যায়নি অধিকাংশ কর্মকর্তাকে। এমনকি অফিস সময়সূচি অনুযায়ী, ওই দিন প্রথম ১ ঘণ্টায় চসিকের বিভাগীয় প্রধানদের কেউই কার্যালয়ে আসেননি। গতকাল হাজির থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাত্র ১৪ শতাংশ অফিস সময়সূচি অনুযায়ী উপস্থিত ছিলেন। বাকি ৮৬ শতাংশ এসেছেন নির্ধারিত সময়ের পরে।
গতকাল নগর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মচারীরা ইলেকট্রনিক হাজিরায় আঙুলের ছাপ দিয়ে অফিসে ঢুকছেন। ভবনের দ্বিতীয় তলায় মেয়রের কার্যালয়। তখনও মেয়র আসেননি। ঠিক বিপরীতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকেও তাঁর কক্ষে পাওয়া যায়নি। পাশেই মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেমের কক্ষ। তিনিও অফিসে ছিলেন না। জানতে চাইলে তাঁর কম্পিউটার অপারেটর মো. শওকত বলেন, গত রোববার)স্যার সকালে এসেছিলেন। আজ এখনও আসেননি। মনে হয় মশকনিধন কার্যক্রম তদারকিতে গেছেন। একই তলার ২০৭ নম্বর কক্ষে সচিব খালেদ মাহমুদের কার্যালয়। মা মারা যাওয়ায় তিনি ছুটিতে আছেন। ২০৯ নম্বর কক্ষটি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের। তিনিও কার্যালয়ে ছিলেন না। ২১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে পাওয়া যায়নি প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারকে।
তৃতীয় তলায় প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের কক্ষটি ছিল তালাবদ্ধ। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী রাজীব চক্রবর্তী জানান, স্যার রোববার মিটিংয়ের জন্য ঢাকা গিয়েছিলেন। আজ এখনও আসেননি। পাশে নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলমকে তাঁর কক্ষে পাওয়া যায়নি। এরপরের কক্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের হলেও তিনি সে সময় ছিলেন না। তাঁর কম্পিউটার অপারেটর রুবেল দে বলেন, স্যার অফিসের কাজে ঢাকায় গিয়েছিলেন। আজ আসবেন কিনা জানি না।
একই তলায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল হুদার কক্ষ। তাঁকেও পাওয়া যায়নি। পাশেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিপ্লব দাশের কক্ষ, তিনিও ছিলেন না। চতুর্থ তলায় বসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর। বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁর দেখা মেলেনি। দুপুর পৌনে ৩টায় তাঁর দেখা মেলে। সময়মতো না আসা প্রসঙ্গে এ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দাবি করেন, তিনি সকালে দামপাড়ায় সিটি করপোরেশনের পুল কার্যালয়ে বসেন। এরপর আসেন নগর ভবনে। সোমবারও দুপুর ১২টার মধ্যে এসেছেন। যদিও আলী আকবরের অফিস সহায়ক মোহাম্মদ ফারুক জানান, স্যার ২০ মিনিট আগে কার্যালয়ে এসেছেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল কাদেরকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁর কক্ষে পাওয়া যায়নি। তাঁর অফিস সহায়ক আব্দুল হক বলেন, স্যার এখনও আসেননি; কখন আসবেন জানি না। ভবনের পঞ্চম তলায় প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী বসেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাঁকে তাঁর রুমে পাওয়া যায়নি।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অফিস সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা। হাজিরা অনুযায়ী বর্তমানে চসিক প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ৭১৫ জন। কিন্তু গতকাল অফিস সময়সূচি অনুযায়ী নগর ভবনে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০১ জন, যা মোট উপস্থিতির মাত্র ১৪ শতাংশ। কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মচারীদের জন্য উপস্থিতি সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। প্রতি মাসে তিন দিন সাড়ে ৯টার পর কেউ এলে কিংবা বিকেল ৪টার আগে কেউ অফিস থেকে বের হয়ে গেলে এক দিনের বেতন কাটা হয়।
তবে কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, উপস্থিতির নিয়ম শুধু কর্মচারীদের জন্য। নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়মের বাইরে। তারা কেউ ইলেকট্রনিক হাজিরা দেন না। তাই ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করতে পারেন। কর্মকর্তারা না এলে কর্মচারীরাও খোশগল্পে মেতে থাকেন। মূলত, মেয়র এলেই সরগরম হয় নগর ভবন।
এদিকে সময়মতো কর্মকর্তাদের অফিসে না আসার বিষয়টি মানতে নারাজ চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৪টা পর্যন্ত অফিস সময়সূচি হলেও অনেক সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাত পর্যন্ত থাকতে হয়। তা ছাড়া ট্রাফিক জ্যামসহ নানা কারণে উপস্থিতির সময় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আসার আগে মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলো পরিদর্শন করে আসেন। তাই হয়তো অনেকের দেরি হয়।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৮/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
