নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ ও জাতীয় সংসদে শিক্ষকদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক–কর্মচারী ঐক্যজোট।
বাংলাদেশ শিক্ষক–কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার উদ্যোগে সোমবার বেলা ১১ টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো. লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষক–কর্মচারী ঐক্যজোট ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ- সভাপতি মো. ইমরুল কবির জিহাদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী সিদ্দিকী, সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শরীফ জাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওয়াদুদ, কর্মচারী ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক মোল্লা প্রমুখ। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা দেশে অভিন্ন শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, একদেশে দুই নীতি চলতে পারে না। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষকদের মাঝে কর্মোদ্দীপনা বাড়াতে অচিরেই দেশে অভিন্ন শিক্ষা নীতি প্রণয়ন ও মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তাঁরা। একইসঙ্গে তাঁদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে, পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তাঁরা।
এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গত ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সারাদেশের শিক্ষকরা। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. বজলুর রহমান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ। শিক্ষকদের এ অবস্থান কর্মসূচিতে লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৭ জুলাই) শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির সপ্তম দিনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ থাকলেও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক শিক্ষক বলেন, শিক্ষকের উপর কিভাবে তাঁরা লাঠিচার্জ করেন ? তাঁরা কি কখনও ছাত্র ছিল না। এটা সমাজের জন্য লজ্জার। যে সমাজে শিক্ষকরা লাঠিপেটার শিকার হন সে সমাজে আর কিছু বাকি থাকে না। আমরা পুলিশকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা উস্কানিমূলক কোনো ধরণের স্লোগান বক্তব্য দেয়নি যে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে পড়বে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রেস ক্লাবের গেট সংলগ্ন রাস্তা আটকিয়ে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষকরা। এতে রাস্তার একদিক দিয়ে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে অন্যদিক দিয়ে যানচলাচল করছিল। কিন্তু আজ দুইদিকের রাস্তা বন্ধ করে দেন শিক্ষকরা। এতে রাস্তার উভয় দিক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তারা জানান, যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েন। আবার রাস্তা আটকে শিক্ষকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে রাস্তা থেকে শিক্ষকদের সরিয়ে দিতে ধাওয়া দেয় পুলিশ। শিক্ষকদের ধাওয়া দিয়ে পল্টন মোড় পর্যন্ত নিয়ে যায় পুলিশ।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল

