এইমাত্র পাওয়া

নির্বাচনের আগে আন্দোলনে অনড় শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষকদের দাবি আছে।

সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায়ে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। নির্বাচনের আগে তারা আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অনশনসহ নানা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন। আর নন-এমপিও শিক্ষকরা চান এমপিওভুক্তি। এ বছর সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির মতো বেতন বাড়ানোর দাবি তুলেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে শিক্ষকসহ নানা পেশাজীবীরা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামেন। এ সময়ে সরকারও কিছুটা নমনীয় থাকে। সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি দেয়। শিক্ষকরা দাবি আদায়ে এই সময়টা বেছে নেন।

এমপিওভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী শিক্ষকরা। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা রোদ কোনো কিছুই তাদের বিরত রাখতে পারেনি। সবশেষ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

গত ১৩ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্বাধীনতা মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সম্মেলন হয়। ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সামনে শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ ও পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদানসহ আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

আন্দোলনে রয়েছেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরাও। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণের দাবিতে গত ৪ মার্চ থেকে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। তারাও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। তিন ধাপে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ তৃতীয় ধাপের বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়নি।

১৯৯৪ সালে রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন মাসিক মাত্র ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। এভাবে একই ধারায় চলতে থাকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ও রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সরকার ২৬ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করলেও উপেক্ষিত থাকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো। প্রায় তিন দশক ধরে পাঠদান করেও বেতনবঞ্চিত রয়েছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ২০ হাজার শিক্ষক। জাতীয়করণের দাবিতে রাজপথে রয়েছেন এসব ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তারাও আন্দোলনের মাঠে রয়েছেন। সহকারী শিক্ষকরাও এখন দশম গ্রেডে বেতন দাবি করছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা একই। ১৯৭৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা একই গ্রেডে বেতন পেতেন। প্রধান শিক্ষকরা একটি ইনক্রিমেন্ট বেশি পেতেন। যেহেতু সবার যোগ্যতাই এক, তাই বেতন-গ্রেডও এক হওয়া উচিত।

আন্দোলনে রয়েছেন অনার্স-মাস্টার্স কলেজের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষক। তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত থাকলেও তাদের পদগুলো এমপিও-প্যাটার্নে নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা কলেজের দেওয়া নামমাত্র বেতনে চাকরি করে যাচ্ছেন।

সদ্য জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকরা নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে আত্মীকৃত কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক ফোরাম (বাসকশিফো)। আত্মীকৃত শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণ, জাতীয়করণের দিন থেকে চাকরি নিয়মিতকরণ এবং আত্মীকৃত শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রভৃতি দাবি তাদের।

স্বীকৃৃতপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবিতেও আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। গত কয়েক বছর ধরে নন-এমপিও শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে আবেদন করে আসছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির দাবিতে বছরজুড়েই আন্দোলন করছেন এনটিআরসি নিবন্ধিতরা।

অন্যদিকে এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম হান্নান বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূর করা সময়ের দাবি। এ জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের সব এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই।

জাতীয়করণপ্রত্যাশী মহাজোটের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা সময়ের দাবি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ও টিউশন ফি বাবদ যা আয় হয় তার যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে ভর্তুকি ছাড়াই জাতীয়করণ সম্ভব।

বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আন্দোলন ছাড়া উপায় দেখছি না।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন উইং) প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, শিক্ষার মূল কারিগর হচ্ছেন শিক্ষকরা। তাদের সব ধরনের যুক্তিসঙ্গত দাবি পূরণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৫/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.