স্কুল শিক্ষকের বাগানে ১১৯ জাতের ফল

ঢাকাঃ কোনো গাছে শোভা পাচ্ছে ফুল, আবার কোনো গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। সাড়ে সাত একর জমিতে দেশি-বিদেশি ১১৯ প্রজাতির ফলের বাগান। বিষমুক্ত নিরাপদ ফল উৎপাদনের স্বপ্ন থেকে বাগানটি শুরু করেন স্কুল শিক্ষক শামসুল আলম। তাঁর বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে। ঘাটাইল এস ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক তিনি।

কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষক হওয়ায় কৃষিকাজের প্রতি আগে থেকেই টান ছিল শামসুল আলমের। তাই শখের বশে গড়ে তোলেন ফল বাগান। এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে বাগানটি। তাঁর বাগান করার উদ্দেশ্য– বিষমুক্ত নিরাপদ ফল উৎপাদন। এ পর্যন্ত বাগানে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। ১১৯ জাতের ফলগাছে জৈব সারসহ পরিচর্যা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় দুই লাখ টাকা। সব খরচ বাদে এ বছর বিভিন্ন জাতের ফল বিক্রি করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাভ হবে বলে জানান শামসুল আলম। এরই মধ্যে কমলা ৬০ হাজার, মাল্টা ৫০ হাজার, আম ৩৫ হাজার এবং লটকন বিক্রি করেছেন দুই লাখ টাকার। তাঁর বাগানে লটকন গাছ রয়েছে আড়াই হাজার। ৮০ শতাংশ গাছে লটকন ধরেছে।

শামসুল আলম বলেন, লটকনের ফলন আসে প্রায় পাঁচ বছর পর। লটকন গাছে ফল না আসায় স্থানীয় লোকজন এক সময় বলাবলি শুরু করেন– মাস্টার কী কাজ শুরু করলেন, বড় ধরনের ধরা খাবেন মাস্টার। এখন সেই মানুষগুলোই লটকন গাছের বাগান করতে তাঁর কাছে চারা চাচ্ছেন। তাঁর দাবি, সারাবছরই তাঁর বাগানে পাওয়া যায় ৩০-৩৫ প্রজাতির ফল। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে ১২ শ্রমিকের।

শামসুল আলম শুধু সফল কৃষকই নন, একজন সুশিক্ষকও। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষার বাস্তব উপকরণ তাঁর ফলবাগান। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা বাগানে বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাগান পরিদর্শন করান তিনি। গাছ লাগানো থেকে শুরু করে পরিচর্যা কীভাবে করতে হয় তা হাতে-কলমে শিক্ষা দেন।

বিদেশি ফল চাষের বিষয়ে শামসুল আলমের ভাষ্য, ভিনদেশি ফলের অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে এই বাগান করা। এ জন্য কলমের মাধ্যমে এসব গাছের বংশবিস্তার ঘটিয়ে অন্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তাঁর বাগানে রয়েছে সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামি ওপি নারকেল, ড্রাগন ফল, তিন ফল, কালো আঙুর, আপেল, রামবুটান, নাশপাতি, দক্ষিণ আফ্রিকার এগফ্রুট, মালয়েশিয়ার জাতীয় ফল ডুরিয়ান, অ্যাভোকাডো, ম্যাংগোস্টিন, কফি, মিরাক্কেল, চায়না কমলা, জাপটিকাবা, আলুবোখারা, পামওয়েল, বিলেতি গাব, অ্যানোনিয়া, সাতকরা, কিং আম, ব্যানানা ম্যাংগো, কিউজাই আম, অ্যামেরিকান সুন্দরী আম, কাঁঠাল, আনারস, আমলকী, জামরুল, শরিফা, করমচা, কাউফল, হেমফল ও লুকলুকি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, শামসুল আলম একজন মিশ্র ফলচাষি। তাঁর উদ্দেশ্য মহৎ। তাঁকে পরামর্শ এবং কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি অফিস।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০৭/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.