বরগুনাযঃ জেলায় জয়দেব রায় নামের এক জনের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র জালিয়াতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইচই পড়ে গেছে। তিনি জাল সনদ ব্যবহার করে একুশে টেলিভিশনের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে বরগুনায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
জয়দেব রায় বরগুনা জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯৯৩-৯৪ সেশনের ১৩৭২২৫ রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ১০৪১৬৮ রোল নম্বরের ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস দেখানো যে সার্টিফিকেটটি ব্যবহার করছেন, সেই রোল নম্বরধারী কোন এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৯৯৫ সালের এসএসসি পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
অন্যদিকে, বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯৯৬-৯৭ সেশনের ৪৪১২১১ রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ৩০৪২৮৮ রোল নম্বরের যে এইচএসসি সার্টিফিকেট জয়দেব জাল করেছেন তা প্রথম আলো বন্ধুসভা, বরগুনার সাবেক সভাপতি ইফতেখার আজাদ মান্নার এইচএসসির সার্টিফিকেট।
জয়দেব রায়ের সার্টিফিকেট জালিয়াতি সম্পর্কে জানতে সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৯২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন বাবা নারায়ণ চন্দ্র রায়ের সাথে সপরিবারে তিনি ভারতে চলে যান। সেখানে তিন থেকে চার বছর অবস্থান করার পর পরিবারসহ বরগুনা ফেরত আসেন ১৯৯৫ সালে। তার সহপাঠী এবং বন্ধুরা জানান, জয়দেব অষ্টম শ্রেণিও পাস করেননি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা চলমান অবস্থাতেই পুরো পরিবারসহ ভারতে চলে যান।
এ প্রসঙ্গে বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর থেকে প্রেরিত টেবুলেশন শিট এবং বরগুনা সরকারি কলেজের রেজিস্টার চেক করে ১৯৯৬-৯৭ সেশনে ৪৪১২১১ রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ৩০৪২৮৮ রোল নম্বরধারী যে শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে তার নাম ইফতেখার আজাদ মান্না।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত টেবুলেশন শিট এবং বরগুনা সরকারি কলেজের রেজিস্টার চেক করে জয়দেব রায় (পিতা- নারায়ণ চন্দ্র রায়) নামে কোন শিক্ষার্থী বরগুনা সরকারি কলেজে পাওয়া যায়নি।
বরগুনা জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর থেকে প্রেরিত টেবুলেশন শিট চেক করে ১৯৯৩-৯৪ সেশনে ১৩৭২২৫ রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ১০৪১৬৮ রোল নম্বরের বিপরীতে কোন শিক্ষার্থীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক এক সভাপতি ও জেলার সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, জয়দেব বরগুনা প্রেসক্লাবের সদস্যপদ প্রাপ্তির জন্য ২০১৫ সালে আবেদন করেছিল। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় তখন আমরা তার মূল সার্টিফিকেটগুলো আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে বলেছিলাম। এটা বলার পর জয়দেব তার আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিয়ে যায়।
সাংবাদিক রেজাউর রহমান বলেন, আমি বর্তমানে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছি। আমার বাড়ি বরগুনাতে, সেখানেই আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। জয়দেব রায়ের সার্টিফিকেট জালিয়াতি সম্পর্কে আমিও ওয়াকিবহাল। এটা বরগুনার সাংবাদিক মহলের ওপেন সিক্রেট।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
