এইমাত্র পাওয়া

মনপুরায় শিক্ষককে তুলে নিয়ে নির্যাতন

ভোলাঃ জেলার মনপুরা উপজেলায় বাড়ি থেকে এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। স্কুলকক্ষের মেঝেতে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ইসলাম শিক্ষা বই’ রাখার অজুহাতে শিক্ষক সুব্রত বালাকে মারধর করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এরপর তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক সুব্রতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি ও ইমাম সমিতির নেতারা নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বুধবার বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার নবম শ্রেণির ইংরেজি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ইংরেজি গাইড ও বই উদ্ধার করে হিন্দুধর্মীয় শিক্ষক সুব্রত হলরুমের মেঝেতে রাখেন। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মেঝেতে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ইসলাম ধর্মীয় ধর্ম’ বই রাখার অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন তাৎক্ষণিক সুব্রতকে ডেকে স্কুলের সবার সামনে ঘটনাটি জানতে চান। মেঝেতে রাখা বইয়ের মধ্যে কোনো ধর্মীয় বই ছিল না বলে জানান শিক্ষক সুব্রত। এর পরও মেঝেতে বই রাখায় তিনি সবার সামনে ক্ষমা চান। তখন প্রধান শিক্ষকও দুঃখ প্রকাশ করেন। ঘটনাটি তখনই মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু ওই দিন বিকালে ইসলামী আন্দোলনের নেতা ও ইমাম সমাজ এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অলি উল্লা কাজলের কাছে বিচার দাবি করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে তিনি শনিবার বিকালে বসার কথা জানান। কিন্তু এক দিন আগেই লজিং বাড়ি থেকে সুব্রতকে ফিল্মিস্টাইলে তুলে নিয়ে দুর্বৃত্তরা নির্যাতন করে।

শিক্ষক সুব্রত বালা জানান, শুক্রবার রাতে ৫-৭টি মোটরসাইকেলে ১৫-১৬ জন এসেছে বাড়ি থেকে আমাকে তুলে নেয়। এরপর সাকুচিয়া ইউনিয়নের সিরাজগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে করাত মিলে নিয়ে আমাকে তারা লাকড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরলে দেখি একটি দোকানে আছি। সেখানে আমার কাছ থেকে ইসলাম ধর্ম বই অবমাননা করার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করে। এরপর চেয়ারম্যান ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শনিবার থানায় মামলার আবেদন করেছি। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সোহাগ বরদার, মুরাদ হোসেন, রাহাত, ফাহাদ, সুজন, শাকিব, ইমন, জাহিদ ও আরিফের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দিয়েছেন। শিক্ষক সুব্রত বালার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম গ্রামে। রহমানপুর গ্রামের প্রতাপ চন্দ দাসের বাড়িতে তিনি লজিং টিচার হিসাবে থাকেন।

এ ব্যাপারে সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে সুব্রত বালাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তিনি আরও বলেন, মেঝেতে ওই শিক্ষক ইসলাম ধর্ম বই রাখেননি। মেঝেতে বই রাখায় ওই শিক্ষক ক্ষমা চেয়েছেন এবং আমি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অলি উল্লা কাজল জানান, ইসলাম ধর্ম বই অবমাননা করায় শিক্ষকের বিচার দাবি করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাসহ আলেমরা। এ নিয়ে শনিবার বসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এরই মধ্যে ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইসলামী আন্দোলনের মনপুরা উপজেলা সভাপতি হাফেজ আবদুল মতিন জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা কয়েকজন চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দাবি করেছি। বিষয়টি নিয়ে বসার কথা রয়েছে। আগেই ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। যারা তাকে নির্যাতন করেছে তাদের বিচার দাবি করছি এবং এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি শিক্ষক সমিতির নেতা আলমগীর হোসেনসহ একাধিক নেতার।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, শিক্ষককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৫/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.