এইমাত্র পাওয়া

সভাপতির মদদপুষ্ট না হওয়ায় তিন বার পেছালো সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

রাজবাড়ীঃ জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কতিপয় সদস্যের মতবিরোধে এ পর্যন্ত ৩ বার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে।

প্রায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বহরপুর স্কুলের পরিচালনা নিয়ে ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি আলী মুনসুরের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে তার সঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ৪জন অভিভাবক সদস্যের বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।

স্কুল ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি আলী মুনসুর খান অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ খণ্ডন করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, কতিপয় সদস্য ও প্রধান শিক্ষক তার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে পারছে না বলেই স্কুল পরিচালনায় অসহযোগিতা করছেন।

বুধবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে বহরপুর হাই স্কুলের প্রশান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সেখ ও চারজন অভিভাবক সদস্য দুর্নীতিপরায়ণ সভাপতিকে বরখাস্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।

বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সেখ, অভিভাবক সদস্য মো, আব্দুল কুদ্দুস, আবুল কালাম আজাদ,রুবেল মাহমুদ সুমন ও দাকা সদস্য আব্দুল মালেক স্বাক্ষরিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, স্কুলের সভাপতি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নিকটবর্তী একটি ব্যাংকে স্কুলের নামে ২টি একাউন্ট খুলেছেন। আর দ্বিতীয় একাউন্টে স্কুলের নিজস্ব দোকানঘরের ভাড়া ও অন্যান্য আয়ের অর্থ জমা রাখেন।

তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের না জানিয়ে বহরপুর বাজারে অবস্তিত স্কুলের ১০টি দোকানের ভাড়া নিজ হাতে তুলে ইচ্ছামত সময়ে দ্বিতীয় একাউন্টে জমা করেন।

গত ১৯ জুন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তিন ধার্য ছিল। রাজবাড়ী-২ আসনোর এমপি মো, জিল্লুল হাকিমের নির্দেশে বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহি অফিসারের উপস্থিস্তিতে নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি জানার পর তিনি মৌখিকভাবে কিছু কারণ দেখিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার দিন অনুপস্থিত থেকে পরীক্ষা স্থগিত করেন।

একইভাবে এর আগেও ওই নিয়োগ পরীক্ষার পর পর ২টি ধার্য তারিখে পরিক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম নানাভাবে ব্যহত করছেন।

বহরপুর স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে তিনি স্বচ্ছাতার ঘাটতি আছে বলে তিনি পরীক্ষা স্থগিত করেছেন বলে দাবি করেন। এ অবস্থায় আলি মুনসুরকে বহরপুর স্কুল পরিচালনা কমিটি থেকে বরখাস্ত করার আবেদন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আলী মুনসুর বলেন, তিনি প্রকল্পের কাজ করে বিল নিয়েছেন। মিটিংয়ে অনুমোদন ছাড়া বিল কিভাবে নিলেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্রয় কমিটির কাছে ভাউচার অনুমোদন করে বিল নিয়েছেন। পরের মিটিং বিল পাস করিয়ে নেয়া যায়।

তিনি কমিটির ইচ্ছার পরিপন্থী ব্যক্তিগত ইচ্ছায় ও স্কেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষক -কর্মচারিদের ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বন্ধ রেখে প্রধান শিক্ষককে জোর করে চেকে সই করায়ে ফান্ডের ৬লাখ ৪১হাজার ৯৩০টাকার তুলে নিজের ইচ্ছামতো উন্নয়ন কাজে খরচ করেছেন। এ নিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরের মিটিংয়ে ওই খরচের ভাউচার সদস্যরা অনুমোদন না করলে তাদের সঙ্গে সভাপতি অসদাচারণ করেন। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি সভাপতি হওয়ায় তার তাপটের ফলে অন্যান্য সদস্য ও শিক্ষক কমচারীরা চুপচাপ করে থাকেন। তিনি বহরপুর বাজরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা হওয়ায় তিনি গত বছরের ২৪ এপ্রিল সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই স্কুল পরিচালনায় শিক্ষক ও সদস্যবৃন্দোর মতের পাত্তা না দিয়ে নিজের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করে আসছেন।

শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের বেতনের স্কুলের বকেয়া অংশের টাকা চাইলেই সভাপতি রাগান্বিত হন ও জমা টাকা সবই স্কুলের উন্নয়ন করার কথা তুলেন। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সভাপতি গত ১৪ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় উপস্থিত থেকেও রেজুলেশন বহিতে সই করেননি। বরং ওই সভায় তিনি পদত্যগ পত্র দাখিল করবেন বলে এজেন্ডা লিখে মিটিং করেন। কিন্তু মিটিংয়ে পদত্যাগপত্র টাইপ করেও তাতে স্বাক্ষরও দেননি, দাখিলও করেননি।

তিনি স্কুল কমিটির মিটিংয়ে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন কি না। এ প্রশ্নের জবাবে আলি মুনসুর জানান, ১১ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৪ জন সদসের অনৈতিক দাবিতে আমি পদত্যাগ করতে পারি না। স্কুল সফলভাবে চলুক তা তারা চায় না।স্কুল কমিটির চারজন সদস্যের কথায় প্রধান শিক্ষক পক্ষপাততুষ্ট হয়ে স্কুলের সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছেন। আমি পদে থাকতে বহরপুর স্কুলের কোনোভাবে ক্ষতি হতে দেব না।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.