কোটি টাকা আত্মসাৎ: মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ছোনকা হাইস্কুল

বগুড়াঃ স্কুল পরিচালনা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটি দিয়ে চলছে বগুড়ার শেরপুরের ছোনকা হাইস্কুল। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের দুইদিকে অবস্থিত শেরপুর উপজেলার ৭নং ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা গ্রামে ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুলটি। এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী কাজিম উদ্দিন যুবলী হাইস্কুল নামকরণ করা হলেও পরবর্তীতে নামের পরিবর্তন করে মোসলেম উদ্দিন সরকার নামে পরিচিতি দেয়া হয়। সে সময় প্রায় সাড়ে ১০ একর সম্পত্তি নিয়ে গড়ে তোলা হয় ছোনকা হাইস্কুল। গত এক যুগ থেকে বিদ্যালয়টির নিজস্ব সম্পদ লুটপাট হয়ে চলেছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্কুল পরিচালনা কমিটির নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ হরিলুট হলেও কোনো প্রতিকার নেই। স্কুলের স্থায়ী অবকাঠামো বলতে পুরাতন আমলের ঢেউটিনের আধাপাকা বেশ কয়েকটি ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই। এমনকি বিদালয়ের প্রধান শিক্ষক আর সহকারী শিক্ষকদের বসার ঘরসহ বিশ্রামের কোনো সুব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি। ছাত্রছাত্রীদের নেই কোনো স্বাস্থসম্মত হাইজেনিক সুযোগ-সুবিধা। বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য আছে ক্লাস রুমের চরম সংকট।

খেলার মাঠটিও বেদখল। মাঠের এক কোনায় আবারো আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে লেদ মেসিনের ঘর তুলেছে ছোনকা গ্রামের মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ফেরদৌস জামান মুকুল, শিক্ষিকা খুরশিদা খুদা, সদস্য মসলা লিটন, মাসুদ, শিক্ষক দিলফুজার, রিপন ও সেলিম মিলে দোকান ঘর বরাদ্দ দেয়ার নামে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে গত ২৩শে মে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খুরশিদা খুদা ওই দোকানঘর অপসারণের জন্য আনোয়ারুল ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সম্প্রসারণে ছোনকা হাইস্কুলের নিজস্ব সম্পত্তি সরকারি নির্দেশে রাস্তায় হুকুম দখল করা হয়। যার ফলে প্রায় ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের হিসাব প্রকাশ হলেও স্কুলের নিজস্ব ব্যাংক তহবিলে এমন বড় ধরনের কোনো অর্থ জমা নেই বলে জানান প্রধান শিক্ষিকা।

অপরদিকে বগুড়া জেলা পরিষদ থেকে এককালীন ১০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ বাবদ দেয়া হলেও তার চিহ্ন নেই। স্কুলের নিজস্ব অর্থে ছাত্রছাত্রীদের বসার বেঞ্চ বানানোর নামে শিক্ষক রিপন ও সেলিম অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগ আছে। এদিকে স্কুলের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা ফেরদৌস জামান মুকুল শেরপুর থানার একটি অপহরণ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে স্কুলের সভাপতি পদে পুনরায় অনুমোদন দেয়া হয়নি বলে জানান শিক্ষকরা। এরপরও প্রধান শিক্ষিকা সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি মুকুলকে দিয়েই গত ৪ মাস ধরে অত্যন্ত গোপনে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন। এ নিয়ে শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক জানান, মেয়াদ উত্তীর্ণ কোনো কমিটি দিয়ে স্কুলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না। সেক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকার কথা।

প্রধান শিক্ষিকা বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করা যায়। এমন মন্তব্য ছিল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস জামান মুকুল জানান, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার গত মে মাসের সরকারি অংশের বেতন বিল ছাড় দেননি। গত ৮ই জুন ব্যাংক বেতন বিলের স্বাক্ষর যাচাই করে ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বিল আটকে দেন। অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার চাকরির নিয়োগ ও সরকারি বিধি মতে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আছে বিস্তর অভিযোগ। ১৯৯৫ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক দিলফুজার রহমান ও খুরশিদা খুদার নিয়োগের কোনো বৈধতা নাই। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত দরকার বলে জানায় অভিভাবকরা।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.