এইমাত্র পাওয়া

হাইকোর্ট বাতিল করেছেন সনদ, তবুও তিনি প্রধান শিক্ষক!

হবিগঞ্জঃ হাইকোর্টের রায়ে বাতিল ঘোষিত বিএড সার্টিফিকেটে মাধবপুর উপজেলার সাহেবনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ওসমান খান। ২০১৯ সালে এমপিওভুক্তির পর অন্য শিক্ষকেরা এমপিও সুবিধা পেলেও সার্টিফিকেট জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষক ওসসান খানের এমপিও আটকে যায়। গত ৩ বছরেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা সম্মানী দিচ্ছে প্রধান শিক্ষক ওসমান খানকে।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৩ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। মাধবপুর উপজেলার জনবহুল চৌমুহনী ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে ২০০১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রধান শিক্ষক ওসমান খান ২০১৩ সালে এই বিদ্যালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। এর আগে ২০০৯ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

২০০৮ সালে ওসমান খান দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাস থেকে বিএড ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৬ সালে  হাইকোর্ট এক রায়ে ২০০৬ সালের পরে ইস্যুকৃত দারুল ইহসানের সব সার্টিফিকেট বাতিল ঘোষণা করেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সাহেবনগর উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হলেও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮ সালের বিএড সার্টিফিকেটের ব্যাপারে অডিট আপত্তির কারণে এমপিওভুক্ত হওয়া থেকে বাদ পড়েন ওসমান খান।

ওসমান খান ২০০৮ সালে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদটিও জাল বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওসমান খান প্রধান শিক্ষক হিসাবে এমপিওভুক্ত না হতে পেরে দারুল ইহসানের সার্টিফিকেটের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে একটি রিট আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন। রীট আবেদন নম্বর ৩১৮৯/০৮। তবে গত ৩ বছর সময়কালে এই রিটের নিস্পত্তি হয়েছে কি-না কিংবা নিস্পত্তি হয়ে থাকলে কি আদেশ দিয়েছেন আদালত এসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। তবে তিনি দাবি করেন, রিটের আদেশ তার পক্ষেই আসবে।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান, ওসমান খানের সার্টিফিকেট অবৈধ এমন কথা অনেকেই তাকে বলেছেন। তবে এর বেশি কিছু জানেন না।

সাহেবনগর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চৌমুহনী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আপন মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক ওসমান খান সম্পর্কে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা তার কর্তৃপক্ষ দেখবে।

মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ওসমান খানের বেতনের সরকারি অংশ প্রদান স্থগিত রয়েছে। হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিলকৃত সার্টিফিকেট নিয়েও তাহলে তিনি কি করে প্রধান শিক্ষক হিসাবে আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, এটা ম্যানেজিং কমিটি বলতে পারবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০৫/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.