শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার কোনো প্রস্তাব দেননি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর প্রধানমন্ত্রীও নিজ থেকে এ আলোচনা ওঠাননি। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকটি সূত্র থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গণভবনে গতকাল বুধবার রাতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার বাড়াতে তদারকব্যবস্থায় জোর দেওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ ধরে রাখা, বৈধ পথে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি—ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। বৈঠকে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছিল, সরকারি কর্মচারীদের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে গণভবনের বৈঠকে আলোচনা উঠতে পারে।
সূত্রগুলো জানিয়েছিল, বাজেট প্রস্তুতিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী বা কেউ যদি আলোচনাটি উত্থাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী যদি তা আমলে নেন, তাহলে কত টাকা বাড়তি লাগতে পারে, সে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে অর্থ বিভাগ। সে ক্ষেত্রে তিনটি চিন্তা বা বিকল্প ভাবা হয়েছিল—১০, ১৫ বা ২০ শতাংশ।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছিল, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য ৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজেট থেকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দের কথা ভাবা হচ্ছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। তবে মহার্ঘ ভাতা ১০ শতাংশ দেওয়া হলে ৪ হাজার কোটি, ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ৬ হাজার কোটি এবং ২০ শতাংশ দেওয়া হলে ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় যোগ হবে, এমন হিসাব করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল কিংবা মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার তার রাজনৈতিক দর্শন থেকে যদি মনে করে এ সংক্রান্ত কোনো সুবিধা দেওয়া যায়, তা আসতে হবে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকেই। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজের আওতায় পড়বে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অর্থ মন্ত্রণালয় তা করতে বাধ্য।
সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে ২০১৫ সালের বেতন কমিশন অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এ বেতন কমিশন প্রণীত হয়। এ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল, আর নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হবে না, বরং প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট বা বেতনবৃদ্ধি হবে। সে অনুযায়ী তা হয়েও আসছে।
দেশে সরকারি কর্মচারী ১৪ লাখ বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাব রয়েছে। বিভিন্ন করপোরেশন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে হিসাব করলে এ সংখ্যা হবে প্রায় ২২ লাখের কাছাকাছি।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৭৫ হাজার ১০ কোটি টাকা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৫/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
