এইমাত্র পাওয়া

সেশনজটে বিপর্যস্ত বাকৃবির শিক্ষার্থীরা

ঢাকাঃ করোনাভাইরাস মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের শিক্ষাখাত। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সেশনজট কমাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা, সেমিস্টারের সময়সীমা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে স্বস্তি ফেরে উচ্চশিক্ষায়। সেশনজট থেকে মুক্তি পায় শিক্ষার্থীরা।

তবে, দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসন অনেকটা “চুপচাপ”। তাদের এই অবস্থানের কারণে ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের দুটি ব্যাচ দ্বিতীয় বর্ষে (লেভেল ২) অধ্যয়ন করছে। অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো বাকৃবিতে সেমিস্টার তো নয়ই, পরীক্ষার সময়সীমাও কমাতে দেখা যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে এক বছর বা তার বেশি সময় পরে স্নাতক সম্পন্নের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেশনজটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আশিকুজ্জামান বলেন, “সেশনজটের কারণে স্নাতক সম্পন্নের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এ সমস্যা সমাধানে যুগোপযোগী ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত আশা করেছিলাম। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। দিন দিন একাডেমিক চাপ ও চাকরির বয়সসীমা শেষ হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাকৃবি প্রশাসন এদিক থেকে অনেকটাই ব্যর্থ।”

সেশনজটের কারণে পড়াশোনার মানসিকতায়ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মুনতারিন ফারাহ বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারি আমাদের সবার জীবন থেকেই দেড় বছরের বেশি সময় কেড়ে নিয়েছে। এদিকে সেশনজটও কমারও কোনো সুযোগ নেই। চাকরির প্রস্তুতিসহ অন্যান্য বিষয়ের সময়সীমা কমে যাওয়ায় বাড়ছে দুশ্চিন্তা। অনেকের বাবা-মা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন; শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে। প্রশাসনের প্রতি দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের অনুরোধ করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। ডিন কাউন্সিল ও শিক্ষা শাখার সবার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই সিদ্ধান্তে আসতে হবে। শুক্রবার সেশন জট নিরসনের ব্যাপারে আলোচনার প্রস্তাব রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “সেমিস্টার সময়সীমা বা সিলেবাস কমানোর বিষয়টি ডিন কাউন্সিলের একার সিদ্ধান্তে হয় না। এসব কার্যক্রমে শিক্ষা শাখার সহযোগিতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষা শাখার আলোচনা সভায় অধ্যাদেশের মাধ্যমে সেমিস্টার সময়সীমা কমানোর এবং সে অনুযায়ী সিলেবাস প্রস্তুতের বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। সভায় সিদ্ধান্ত পাস হলে তবেই সেমিস্টার কমানোর কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম সেমিস্টারভিত্তিক হওয়ায় সময়সীমা কমানোর বিষয়টি একটু জটিল। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদেরকেও সহযোগিতা করতে হবে। অলিখিত বা পরীক্ষার মাঝে তাদের যে অতিরিক্ত ছুটিগুলো থাকে সেগুলো কমিয়ে আনলেই সেমিস্টার সময়সীমা প্রায় মাসখানেক কমানো সম্ভব।”

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৫/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য় 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.