নিজস্ব প্রতিবেদক।।
প্রশাসনে উপসচিব, যুগ্ম সচিব এবং অতিরিক্ত সচিব এই তিন স্তরে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি দেয়া হয়েছে। যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি শিগগিরই সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সামনে উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও এসব পদের চেয়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন।
প্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্য অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তার তালিকা চেয়ে গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে চিঠি দেয়া হয়। ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামছুল আরেফিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, উপসচিব পদে পদোন্নতির যোগ্য বিসিএস ২৯তম ব্যাচ পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা সিনিয়র স্কেল পদে ন্যূনতম পাঁচ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে অন্যূন ১০ বছর চাকরি পূর্ণ করেছে তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে ১০ জনের তালিকা সংযুক্ত ছকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হলো। তালিকা প্রেরণের তারিখ শেষ হয়ে গেলেও এখনো অর্ধেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ তা পাঠাতে পারেনি।
গত ২ নভেম্বর ১৭৫ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার। এর ছয় মাসের মাথায় আবারো যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়ার তোড়জোড় চলছে। যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির জন্য ২২ ব্যাচ পর্যন্ত ৫৬৫ জন কর্মকর্তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২২ নিয়মিত ব্যাচের ২৪৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের ১১৩ জন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ক্যাডারের ২০৭ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য ১৭ নিয়মিত ব্যাচের ৮৩ জনসহ প্রশাসন ক্যাডারের ২১৬ জন কর্মকর্তাকে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য ক্যাডারের ৫১ জন কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির বিবেচনায় রয়েছেন। এই পদে পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
যদিও বর্তমানে প্রশাসনে সিনিয়র সচিব/সচিবের ৬৯টি পদে কর্মরত রয়েছেন ৮০ জন। অতিরিক্ত সচিবের ১৪০টি পদে কর্মরত আছেন ৩১৩ জন। যুগ্ম সচিবের ৩৩২টি পদে আছেন ৮৪৭ জন কর্মকর্তা। ৪৩০টি সুপারনিউমারারি পদসহ উপসচিবের অনুমোদিত পদ এক হাজার ৪২৮টি, কর্মরত আছেন এক হাজার ৭০১ জন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে এক হাজার ৮৭৬ জন কর্মরত থাকলেও অনুমোদিত পদের সংখ্যা দুই হাজার ৯৭৫। আর সহকারী সচিব পদে এক হাজার ৪৩৬ জন কর্মরত থাকলেও পদসংখ্যা এক হাজার ৩৯৩।
পদোন্নতি দেয়ার জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তার কর্মজীবনের সব নথিপত্র আলাদাভাবে পর্যালোচনা করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে সংশ্লিষ্ট শাখা। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা, দুর্নীতির বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়োজনীয়সংখ্যক পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনে চলছে গণ পদোন্নতি। এমনি অবস্থায় প্রশাসনে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ধরনের গণ পদোন্নতি নিয়ে খোদ প্রশাসনেই বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা। বিশেষ করে পদবঞ্চিতদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বেশি। সচিবালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে আলাপে এসব তথ্য জানা গেছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসনের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না বিদ্যমান বিধিমালা। গুটিকয়েক কর্মকর্তার হাতে বন্দী হয়ে পড়েছে পুরো প্রশাসন। এমন পদোন্নতি দেয়ায় ব্যাচের অধিকতর জুনিয়র কর্মকর্তারা এখন নীতিনির্ধারক পর্যায়ে চলে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দীন আহমদ বলেন, পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কাজে গতিশীলতা আসে। যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতি না পেলে উল্টো হতাশার সৃষ্টি হয়। এ জন্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি হওয়া উচিত। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পদ সৃষ্টি করা দরকার।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৯/০৫/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়র
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
