খুলনাঃ দেশে দৃষ্টি, বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ৯টি বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ আছে মাত্র এক হাজার শিক্ষার্থীর। অথচ এর মধ্যে খুলনার গোয়ালখালীর ১০০ আসনের বিদ্যালয় ভবন ৫ বছর আগেই ঘোষণা করা হয় পরিত্যক্ত। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা শিক্ষকদের। তারা জানান, নতুন ভবন চেয়ে সমাজসেবা অধিদফতরে বারবার ধরনা দিয়েও মেলেনি সাড়া।
হাসির পরে কান্না আছে…দেখিস আলোর মুখ…। গানের এই কথার মতোই রাতের আঁধার শেষে আলোয় আলোকিত হয় বিশ্বচরাচর। কিন্তু সেই আলো কি সবার জীবনে পৌঁছায়? অন্তত প্রতিবন্ধী সান্তনার জীবনে নয়।
জন্ম থেকেই অন্ধ সান্তনা পড়াশোনা করছেন খুলনার দৃষ্টি ও বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সান্তনা এখানে সুযোগ পেয়েছেন জীবনের একমাত্র শখ গান শেখার ইচ্ছা পূরণের। পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতির বই আলো ফেলেছে তার জ্ঞানের রাজ্যে।
কানিজ ফাতেমা আইরিন একই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। চোখের জ্যোতি না থাকলেও কমতি নেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মনোবলে। যেখানে বাদ সাধতে পারেনি কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা।
সান্তনা, আইরিনসহ শত বিশেষ শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দেয়া খুলনার গোয়ালখালি এলাকায় দৃষ্টি ও বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে। সময়ের আবর্তে ভবনটি এখন জীর্ণশীর্ণ। খসে পড়ছে পলেস্তরা। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৮ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে ঘোষণার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কানে পানি যায়নি প্রশাসনের।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সৈয়দ শাইখ সাদ্দাদ বলেন, এটা পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়ে গেছে। এ বিষয়ে বিভাগকে বারবার বলছি। এখনো এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এর বাইরেও মারাত্মক সংকট ছিল স্যানিটেশনে। পাকা ভবন থাকলেও ছিল না পর্যাপ্ত ও মানসম্মত টয়লেট। তবে বেসরকারি সংস্থা ওয়াটার এইডের সহায়তায় স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই শিক্ষার্থীরা।
দায়িত্বরতরা জানান, সেখানকার বাগানে একটা বাচ্চাকে সাপে কামড়িয়েছিল। হাসপতালে নিয়ে তাকে চিকিৎসা করে সুস্থ করা হয়। এখন একটি ওয়াশরুম হওয়াতে তারা খুবই খুশি।
স্বাভাবিক শিশুর তুলনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মেধা ও মননের বিকাশে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। এক্ষেত্রে সরকার ও সহযোগী সংস্থার মনোযোগ জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ওয়াটার এইডের প্রোগ্রাম অফিসার (ইঞ্জিনিয়ার) ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমরা একটা প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করেছি। বাংলাদেশে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। আর এরকম অনেক শিশু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার এবং আরও যারা সহযোগী সংস্থা আছে, তাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ছাড়াও বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ৬০ শিক্ষার্থীর পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/০৫/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
