এইমাত্র পাওয়া

জনগণের টাকায় চলে চার বিদ্যালয়

রাঙামাটিঃ জেলার জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম মৈদং এবং দুমদুম্যা ইউনিয়নে চারটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। জনগণের টাকায় চলছে বিদ্যালয়গুলোর অন্যান্য খরচ।

দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে এসব বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠদান করা হলেও এখনও জাতীয়করণ হয়নি। এতে শিক্ষক ও এলাকাবাসী হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুরাছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে দুমদুমা ইউনিয়ন। এর পাশের মৈদং ইউনিয়নটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী এ দুটি ইউনিয়ন স্বাধীনতার পর থেকে দুর্গমতার কারণে পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর। জেলার অন্যান্য স্থানের তুলনায় শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে এ দুটি ইউনিয়ন। এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করা। সেই স্বপ্ন নিয়ে এ দুটি ইউনিয়নের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী দুমদুম্যা ইউনিয়নে বগাখালী বাজার এলাকায় ১৯৯৫ সালের দিকে বগাখালী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২০০৫ সালের দিকে একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে বামে সুবলং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলে। এছাড়া মৈদং ইউনিয়নে ডানে তেছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোগাছড়ি মোনপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে। এসব বিদ্যালয়ে দুইশর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। শুরুতে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদানে স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সহায়তার হাত বাড়ায়। কিন্তু সংস্থাটির প্রকল্প শেষ হওয়ার পর আর সহায়তা দিতে পারেনি। বর্তমানে এলাকাবাসীর টাকায় চলছে এ চারটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম। তবে শিক্ষকরা বিনা বেতনে শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

মৈদং ইউপি সদস্য ধনরঞ্জন চাকমা জানান, অভিভাবকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা টাকা দিয়ে এসব বিদ্যালয় কোনো রকমে চালানো হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় না এলে এলাকার শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।

ডানে তেছড়ি বেসরকারি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা শম্পা রানী চাকমা জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিনা বেতনে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য কোনো সংস্থায় চাকরির সুযোগও নেই। ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন জানেন না। একমাত্র ভরসা সরকার যদি বিদ্যালয়সহ শিক্ষকদের জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে আসে তাহলে কষ্টের দিনগুলো সার্থক হবে।

মৈদং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা জানান, এসব বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছে। সব অবদান শিক্ষকদের, অথচ তাঁদের কোনো বেতন-ভাতা নেই। যেহেতু এ সরকার শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে তাই এ বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে আসতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তিনি।

জুরাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, চারটি বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করতে বিগত সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কৈশিক চাকমা জানান, এ চারটি বিদ্যালয়সহ ২৭টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৫/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.