এইমাত্র পাওয়া

জলে গেল এক উপজেলাতেই প্রাথমিকের ৫ কোটি টাকা!

বরিশালঃ জেলার উজিরপুর উপজেলার ১৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ৫ কোটি ৩১ লাখ ২ হাজার ৩৫০ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন অচল হয়ে পড়ে আছে। কোনোটির শুধু আলো জ¦লে কিন্তু আঙুলের ছাপ নেয় না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না শিক্ষকরা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিজের পছন্দের কোম্পানি থেকে নিম্নমানের বায়োমেট্রিক মেশিন কিনতে বাধ্য করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বায়োমেট্রিক মেশিনের খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এসব মেশিন নষ্ট হয়ে ভেস্তে গেছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।

জানা যায়, সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়, স্কুলের সরকারি ফান্ড থেকে স্কুল পরিচালনা কমিটি মেশিন কিনবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ মেশিন ক্রয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে প্রতিটি বিদ্যালয়ের সিøপের টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। নির্দেশনা মোতাবেক অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মেশিন ক্রয় এবং স্থাপন করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনেক মেশিন নষ্ট আবার অনেক শিক্ষক জানেন না এর ব্যবহার। আবার অনেকে ইচ্ছে করে ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে গেছে মেশিনগুলো।

সরেজমিনে ইচলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলনা শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বামরাইল, মু-পাশা, কালবিলা, বিলগাব বাড়ি, মধ্য সাতলা, নাথারকান্দি ও জল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন অকেজো। কেউ ব্যবহার করছে না। বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সঠিকভাবে পরিচালনা করে ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট কানেকশন থাকার কথা। কিন্তু কোথাও তা দেখা যায়নি। এছাড়া শিক্ষকরাও জানে না কীভাবে এটি পরিচালনা করতে হয়।

খোলনা শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার মৃধা বলেন, ‘স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন স্থাপন করে গেছে। আমরা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মেশিন ৩০ হাজার টাকা দিতে অপারগতা জানালে অন্যত্র বদলিসহ নানা হুমকি দেওয়ায় টাকা দিতে বাধ্য হই। সেই নিম্নমানের মেশিন এখন অচল হয়ে পড়ে আছে।’

পূর্ব জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোবারক মৃধা অভিযোগ করেন, ‘সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদারের মনোনীত কোম্পানি থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয় না করলে তিনি ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিতেন না।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘মেশিনটি পরিচালনার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নাই। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে অনেক মেশিন ব্যবহার করা হয়নি। তাই কিছু নষ্ট হতে পারে। তবে সেগুলো আবার সচল করে ব্যবহার করা হবে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সত্যতা পেলে খুব শিগগিরই এর প্রতিকারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৫/২০২৩  

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তা’য়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.