প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ২৩ নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক।।

৩০শে এপ্রিল শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পূর্বের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার। এবার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার
জন্য দেয়া হয়েছে ২৩ নির্দেশনা। আজ থেকে এক মাস বন্ধ রাখা হবে কোচিং সেন্টার। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন নজরদারিতে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন শিক্ষার্থী। এ বছর শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫০ হাজার ২৯৫ জন ও পরীক্ষাকেন্দ্র বেড়েছে ২০টি।

গতকাল আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সভায় ২৩টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এগুলো হলো- এবার পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হবে এবং শেষ হবে দুপুর ১টায়। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থী বিলম্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে তার নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, বিলম্ব হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করে ওই দিনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৩ সুষ্ঠু, সুন্দর ও প্রশ্নফাঁসের গুজবমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী ২৬শে এপ্রিল থেকে ২৩শে মে পর্যন্ত সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। কেন্দ্র সচিব ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ (ফিচার) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রেজারি-থানা হতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারীগণ কোনো ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং প্রশ্নপত্র বহন কাজে কালো কাঁচযুক্ত মাইক্রোবাস বা এরূপ কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ প্রদান করা হবে। ট্যাগ অফিসার ট্রেজারি, থানা হেফাজত থেকে কেন্দ্র সচিবসহ প্রশ্নপত্র বের করে পুলিশ প্রহরায় সকল সেটের প্রশ্ন কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২৫ মিনিট পূর্বে প্রশ্নের সেট কোড ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট বিধি অনুযায়ী খুলবেন। প্রশ্ন ছাপানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিজি প্রেসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হবে। জেলার ক্ষেত্রে ট্রেজারি এবং উপজেলার ক্ষেত্রে থানার প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক সংরক্ষণ করতে হবে। ট্রেজারিতে রক্ষিত প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর তিন দিন পূর্বে দিনভিত্তিক ও সেটভিত্তিক সর্টিং করে সিকিউরিটি খামে সংরক্ষণ করতে হবে।
পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, ইউটিউবসহ অন্যান্য সকল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব সৃষ্টিকারীদের পেজ দ্রুত বন্ধ করা হবে। এজন্য ফেসবুকসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিটিআরসি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা পরীক্ষার্থীদের নিকট উত্তর সরবরাহে জড়িত ব্যক্তি যদি কোনো মোবাইল নম্বরে একাধিকবার একই অঙ্কের টাকা লেনদেন করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক কোনোভাবে পরীক্ষায় বেআইনি কোনো কাজ করলে সে প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দোষী শিক্ষক ও কর্মচারী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলে তার এমপিও স্থগিত করা হবে। ট্রেজারি/থানা থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য দূরত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় নির্ধারণ করে প্রশ্নপত্র আনতে হবে। আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। ঢাকা মহানগরীতে ট্যাগ অফিসার মনোনয়ন দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক, সে অনুযায়ী মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সংখ্যক কলেজ/স্কুলের শিক্ষক মনোনয়ন দিয়ে তালিকা জেলা প্রশাসক, ঢাকার নিকট প্রেরণ করবেন।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি পরীক্ষার সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব বা অপতৎপরতা সৃষ্টিকারী চক্রগুলোর কার্যক্রম বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের জোর নজরদারি থাকবে উল্লেখ করে করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা পরীক্ষার্থীর কাছে উত্তর সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, যদি কোনো মোবাইল নম্বরে একাধিকবার একই অঙ্কের অর্থ সন্দেহজনকভাবে লেনদেন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে নিকটস্থ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করতে পারবো।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ২১ হাজার ১৯৭ এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭০ জন এবং ছাত্রী ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪০৫ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৫১ হাজার ১২৮ জন। এ ছাড়াও দেশের বাইরে আটটি কেন্দ্রে ৩৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।

২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ হাজার ২৯৫ জন। এর মধ্যে ছাত্রী বেড়েছে ৩৮ হাজার ৬০৯ জন। এ ছাড়া মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২০৭টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২০টি। ২০২৩ সালের সংশোধিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হবে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে তত্ত্বীয় পরীক্ষা ৩০শে এপ্রিল হতে ২৩শে মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৪শে মে শুরু হয়ে ৩০শে মে শেষ হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা ৩০শে এপ্রিল হতে ২৫শে মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৭শে মে শুরু হয়ে ৩রা জুন শেষ হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ৩০শে এপ্রিল থেকে ২৩শে মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৫শে মে শুরু হয়ে ৪ঠা জুন শেষ হবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. কামাল হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান প্রমুখ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.