কিশোরগঞ্জঃ জেলার কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী আব্দুল হকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, ঘুষ-বাণিজ্য ও শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে মহাপরিচালক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ২৬ জন শিক্ষক।
আব্দুল হক শিক্ষকদের বকেয়া বেতন, চিকিৎসা ছুটি, মাতৃত্ব ছুটি, টাইমস্কেল, ইনক্রিমেন্ট, জিটিএফ লোন, ব্যাংক লোন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পিআরএল পেনশন, উন্নীত স্কেল, যে কোন ধরনের প্রত্যয়ন ও নতুন শিক্ষকদের যোগদানসহ সকল কাজের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে থাকেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলায় ১১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৭শত শিক্ষক কর্মরত আছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী আব্দুল হকের লাগামহীন ও বেপরোয়া ঘুষ-দূর্নিতীর কারণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন শিক্ষকমন্ডলীগণ। কোন কাজে আব্দুল হকরে কাছে গেলে তিনি প্রকাশ্যে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করেন।
টাকা না দিলে কোন কাজ করেন না। দিনের পর দিন শিক্ষকদের কাজ ফেলে রেখে হয়রানী ও পেরেশানী করে থাকেন। শিক্ষকদের সামনে প্রায়-ই হুমকী দেন যে, আমার বিরুদ্ধে বিচার দিলে কোন কাজ হবে না। আমার হাত অনেক লম্বা। আমাকে কেউ কিছু করতে পারবেনা।
২০২৩ সনের মার্চ মাসে কিছু সংখ্যক শিক্ষক আন্তঃউপজেলা ও আন্তঃজেলা পর্যায়ে অত্র উপজেলা থেকে অন্যত্র বদলী হন। এসব বদলীর জন্য আবেদনকৃত শিক্ষকদেরকে অফিসে ডেকে এনে ভয়-ভীতি দেখান যে, টাকা না দিলে তাদের অনলাইনে করা বদলীর আবেদন উপজেলা থেকেই বাদ পড়ে যাবে। এই ভয়-ভীতি দেখিয়ে তিনি শিক্ষকদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।
তাছাড়া বদলীকৃত শিক্ষকদের উপজেলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করেন।উপজেলার চান্দপুর বড়বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহারের কাছে অব্যাহতির জন্য ১ লক্ষ টাকা দাবী করেন। ১ লক্ষ টাকা না দিলে অব্যাহতি পত্র দেওয়া হবে না। কারণ আপনার বদলীর আদেশে প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে কথাটি উল্লেখ আছে। কামরুন্নাহার বদলীর জন্য বাধ্য হয়ে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দেন।
২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে স্লীপের বরাদ্দকৃত টাকা হইতে অডিট খরচের নামে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে নেন।
ফের্রুয়ারী মাসে উপজেলার ৯৫টি বিদ্যালয়ে সরকারীভাবে ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। ল্যাপটপগুলো দেওয়ার সময় আব্দুল হক উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমতি ছাড়াই প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকদের নিকট থেকে ৫শত টাকা করে আদায় করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী আব্দুল হক জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়। অনৈতিক আবদার রক্ষা না কারার কারণে কেউ কেউ হয়ত এমন অভিযোগ আনতে পারে। এগুলোর সাথে আমি জড়িত নই।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আফজাল হোসেন খন্দকার জানান, বিক্ষিপ্ত ভাবে শিক্ষকদের নিকট থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বনিক জানান, আব্দুল হকের বিরুদ্ধে আমি লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
