নিউজ ডেস্ক।।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের ওপর গত বৃহস্পতিবার রাতে কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদলের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাদলসহ দুই কর্মচারীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তাঁরা এই দাবি জানান। কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি সুপারভাইজার বদিউজ্জামান বাদল এবং তাঁর সহযোগী শাহীনুর রহমান সাগর এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর। হামলার শিকার মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি, খাদ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ খান বলেন, ‘কর্মচারী বাদল এর আগেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছেন। তিনি মূলত কর্মচারী পরিচয়ে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ।’
ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান সুকর্ণ বলেন, ‘বাদলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। এ জন্য ২০১৬ সালে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর বাদল আবার ক্যাম্পাসে ফিরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আমরা তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার চাই।’ এ সময় আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাদলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী মামুন জানান, পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি ব্যবসা করেন। ব্যবসার লাভের অর্থ দিয়েই তিনি পড়ালেখার খরচ চালান। ২০২০ সালে জমানো টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মুজাহিদ হাসানের সঙ্গে অংশীদারি ভিত্তিতে চার শতক জমি কেনেন। সেই জমি এখনো মালিকপক্ষ বুঝিয়ে দেয়নি। উল্টো মালিকপক্ষ আরো আড়াই লাখ টাকা দাবি করেছে। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাদল, সাগরসহ কয়েকজন তাঁকে হাতুড়ি, রড ও বাঁশ দিয়ে মারধর করেন।
এদিকে মারধরের ঘটনায় বাদল এবং তাঁর সহযোগী সাগরের নামে গত শুক্রবার যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন মুজাহিদ হাসান।
এজাহার অনুযায়ী, মামুন ও মুজাহিদ মিলে ওই জমি কেনার পর থেকেই বাদল এবং তাঁর সহযোগীরা জমিটি ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এমনকি ফোন করে বিভিন্ন হুমকিও দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই জমিতে যান মামুন। এ সময় বাদল এবং তাঁর সহযোগীরা মামুনকে একা পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাঁরা মামুনকে হাতুড়ি, লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। পরে মামুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা পালিয়ে যান। মামুনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মামুন এ হামলার বিচার চেয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপাচার্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নির্যাতিত শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীর ওপর হামলা কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
