নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘সংস্কৃতি ও ধর্ম স্বতন্ত্র বিষয়; একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও বিরোধ নেই। আমরা প্রকৃতি থেকে সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করি, শিক্ষা নিই। অন্যদিকে, সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে আমরা ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করে থাকি। একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও দ্বন্দ্ব নেই।’
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী (১১-২০ এপ্রিল) ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩০’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথভাবে আয়োজন করেছে এই মেলা।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বৈশাখী মেলা নববর্ষের সর্বজনীন অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। নতুন বছরে মানুষের আনন্দ অনুভূতির প্রকাশ ঘটে বৈশাখী মেলার মাধ্যমে। এ মেলা উপলক্ষ্যে মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, নানা জাতের কুটির শিল্প, কারুশিল্প, খেলনাসহ হরেক রকমের পণ্যের সমাহার ঘটে এ মেলায়। এছাড়াও থাকে যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন। নতুনকে বরণ করার উদ্দেশ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে বৈশাখী মেলা একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। এতে মানুষের প্রগতিশীল চেতনা জাগ্রত হয়।
পহেলা বৈশাখে প্রতিহত করার জন্য কিছু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী নানাভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে বর্তমান সরকারের তৎপরতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন পহেলা বৈশাখের দু’টি প্রেক্ষাপট অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। সম্রাট আকবরের সময় কৃষি জমির খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা নববর্ষ চালু হয়। ধীরে ধীরে এটি সর্বজনীন রূপ লাভ করে।’
বিভিন্ন সময়ে কিছু ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পহেলা বৈশাখের বিরোধিতা করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সরকারের আমলে একবার পহেলা বৈশাখ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা একটি গোষ্ঠী আবারও পহেলা বৈশাখের পেছনে উঠে-পড়ে লেগেছে। পহেলা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা যেটি ইতোমধ্যে ইউনেস্কো’র বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে সেটিকে নিষিদ্ধকরণের জন্য এক আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন বিসিকের চেয়ারম্যান মুহ. মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিসিকের উদ্যোগে দেশের কারুশিল্পীদের মধ্যে তাদের কাজের দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘কারুশিল্পী পুরস্কার-১৪২৯’ প্রদান করা হয় যার মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পীকে কারুরত্ন এবং ৯ জন দক্ষ কারুশিল্পীকে কারু-গৌরব পুরস্কার প্রদান করা হয়। মেলায় মোট স্টল থাকছে ৮৮টি; যার মধ্যে চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্য ১৩টি; ফ্যাশন বা বুটিকস পণ্য ৪৮টি, খাদ্যজাত পণ্য ১০টি; বাঁশ, বেত ও হস্তশিল্প পাঁচটি; বিসিক মধু দুটি এবং কর্মরত কারুশিল্প ১০টি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
