শিক্ষাবার্তা ডেস্ক।।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (ঢাকা শিশু হাসপাতাল) পাঁচ বছরের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ডাক্তারদের পড়াবেন দুই বছরের ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী সহকারী অধ্যাপকরা। দুই বছরের ডিপ্লোমাধারী কয়েকজন সহকারী অধ্যাপকের মাত্র এক বছরে স্নাতকোত্তর লেখাপড়া রয়েছে, বাকি এক বছর কাজের অভিজ্ঞতা (ট্রেনিং)।
মূলত এই সহকারী অধ্যাপকদের রয়েছে মাত্র এক বছরের স্নাতকোত্তর লেখাপড়া। সহযোগী অধ্যাপক হলে তারাই পড়াতে যাবেন পাঁচ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থী ডাক্তারদের। এ ধরনেরই কমপক্ষে পাঁচজন সহকারী অধ্যাপককে ঢাকা শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহযোগী অধ্যাপক পদে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে।
এই হাসপাতালে পাঁচ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থী (এমবিবিএস পাস করার পর পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থী) চিকিৎসকরা বলছেন, ক্ষমতার জোরে এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অদ্ভুত পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে। পদোন্নতি দেয়া হলে এটা হবে খুবই হাস্যকর। ঢাকা শিশু হাসপাতালের পাঁচ বছরের শিক্ষার্থী ডাক্তারদের কয়েকজন জানিয়েছেন, পদোন্নতি পেতে যাওয়া সহকারী অধ্যাপকরাতো তাদের (ছাত্রদের) চেয়েও কম জানেন।
ছাত্ররা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে গেলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কোর্সে পড়াশোনা করে। আর যে সহকারী অধ্যাপকদের পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, তারাতো এমবিবিএসের পর মাত্র এক বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সে পড়াশোনা করেছেন। বরং স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা ওই সহকারী অধ্যাপকদেরই পড়াতে পারবেন? কারণ কোর্সে ওই ছাত্ররাই সহকারী অধ্যাপকদের চেয়ে বেশি পড়াশোনা রয়েছে।
যে সহকারী অধ্যাপকদের পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, তাদের একজন ডাক্তার কামরুজ্জামান কামরুল। এমবিবিএস ডিগ্রির পর দুই বছরের ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী এই ডাক্তারকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল নিয়ম ভঙ্গ করে সহকারী অধ্যাপক করেছিল। এখন আবার এই ডাক্তারকেই সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সহযোগী অধ্যাপক হতে হলে যেকোনো প্রার্থীকে পাঁচ বছরের এফসিপিএস অথবা এমডি ডিগ্রিধারী হতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করেই ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের সহযোগী অধ্যাপক করতে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী যথাক্রমে ডা: রফিকুল ইসলাম (জাপানি রফিক নামে পরিচিত), ডা: রফিকুল ইসলাম (বুদ্ধিমান রফিক নামে পরিচিত) এবং ডা: মোশাররফ হোসেন সহকারী অধ্যাপক পদে চাকরি করছেন। কিন্তু এই তিনজনের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগই বৈধতা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের সূত্রগুলো বলছে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী এই তিন ডাক্তারকে হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ২০১৭ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়।
এ কারণে তাদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগই অবৈধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, কারণ অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল কাউকে নিয়োগ দিতে পারে না। তবে ২০১৯ সালে হাসপাতালের নিয়োগ বোর্ড এই তিন জনকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন করেছিল বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের সহযোগী অধ্যাপক হতে হলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। নিয়োগ বোর্ডের নিয়ম অনুসারে এই তিনজনের এখনো পাঁচ বছর পূর্ণ হয়নি। জানা গেছে, এই হাসপাতালেই আরো ১০ জন এফসিপিএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ডাক্তার সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এফসিপিএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ডাক্তারদের আবেদনই গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া এই হাসপাতালের পরিচালকের একক কর্তৃত্বে সহকারী অধ্যাপক করা হয় ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডাক্তার ডা: রিজওয়ানুল আহসান বিপুলকে। নিয়োগ বোর্ড ছাড়া পরিচালক কাউকে নিয়োগ দিতে না পারলেও ডা: বিপুলকে পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন। তার এই নিয়োগটি পুরোপুরি অবৈধ হলেও তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালে দাপটের সাথেই চাকরি করে যাচ্ছেন। কারণ তিনি পরিচালকের খুব কাছের লোক।
এসব অভিযোগ নিয়ে গত ৯ এপ্রিল কথা হয় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (ঢাকা শিশু হাসপাতাল) পরিচালক অধ্যাপক ডা: মো: জাহাঙ্গীর আলমের সাথে। তিনি বলেন, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে কোনো সমস্যা নেই। সরকারি হাসপাতালে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডাক্তাররা বিভাগের চেয়ারম্যানও হয়েছেন এমন নজির আছে।
তিনি বলেন, এই সহকারী অধ্যাপকদের ৮-৯ বছর চাকরি হয়ে গেছে। তারা সব ক্রাইটেরিয়া পূর্ণ করেছেন, ফলে তারা পদোন্নতি পেতেই পারেন। অন্য একজনকে নিজের লোক বলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আমার আপনজন কেউ নেই। আমার আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেইনি। এলাকার কোনো লোকজনও নেই। আমি স্বজনপ্রীতির আশ্রয় কোনো কাজ করি না। আমার সব কিছুই অত্যন্ত স্বচ্ছ।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
