দুর্নীতির শত অভিযোগ মাথায় নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে প্রধান শিক্ষক

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ নারায়ণগঞ্জে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওর ফাইল প্রক্রিয়াকরণের নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে; ছিল দূর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ; এ সব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করেছে।

অবশেষে সেই কর্মকর্তাকে বদলী করা হয়েছে ঢাকার বাহিরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে এমন একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, দূর্নীতিবাজ এ সকল শিক্ষা কর্মকর্তাদের বদলী না করলে নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষা কর্মকর্তার নাম মো. শরিফুল ইসলাম। সে ২০১৭ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নারায়ণগঞ্জের ১৪৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪১৪ জন শিক্ষক এমপিও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ২০২২ সালে। যোগদানকৃত শিক্ষকরা সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বেতনভাতা প্রাপ্তির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করতে হয়। তখন মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, এ আবেদনটি প্রক্রিয়া করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রথম পর্যায়ে ১৫ হাজার এবং পরবতীতে আরো ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানও পরিচালনা করে বলে জানা যায়।

গত ৯ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে মেহেরপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত মেহেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে বদলী করা হয়। তার মাত্র ৫ দিন পূর্বে ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিক উদ্দিন আহাম্মদ ও বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মো. আরিফুর রহমানকে বদলী করা হয়েছে।

বদলীর এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোসা. ইসমত আরা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বদলীর বিষয়টি ঘন্টা খানেক আগে শুনেছি। আসলে কেন বদলী করা হলো, সেটা জানতে পারিনি।

শহরের গণবিদ্যা নিকেতন হাই স্কুলের ট্রাস্টের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, এসব শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বরাবরই অভিযোগ ছিল। তারা ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে এখানেই বদলী হয়ে থাকতেন। ফলে নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়তেন। শিক্ষকদের কাছ থেকে অনৈতিক স্বার্থ আদায় করতেন। বিশেষ করে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৪১৪ শিক্ষকের এমপিও নিয়ে দূর্নীতি অভিযোগ ছিল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। উপজেলার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ আছে। কিন্তু রুটিন বদলী হয়েছে দাবি করে তাদের অপরাধ গুলোকে আড়াল করা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে কুলশিত করতে আমাদের নানা ভাবে তারা হয়রানি করে আসছে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় এমনও কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে, তারা সিন্ডিকেট তৈরি করে ২০ বছর যাবত এখানে কর্মরত আছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হলে তাদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে অন্যত্র বদলী করতে হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৪/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.