এইমাত্র পাওয়া

১২ মাস বৈঠা বেয়ে স্কুলে যায় ওরা

মো. হাসান তালুকদার।।

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিলডুমরিয়া, মনোহরপুর, দাসপাড়াসহ অগণিত বিল রয়েছে। উপজেলার পরিসংখান অনুযায়ী এ বিলাঞ্চলে রয়েছে ছোট বড় ৪ হাজার খাল। তাই এ জনপদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা।

স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বছরের বারমাসই বৈঠা বেয়ে নৌকায় স্কুলে যাতায়াত করে। খালের পাড় ধরে বয়ে গেছে সরু মেঁঠো পথ। বর্ষা মৌসুমে এ সকল মেঠো পথ পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে, যা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শীত মৌসুমের শেষদিকে এ মেঠোপথ দিয়ে চলাচল করা গেলে ও বাঁকে বাঁকে রয়েছে অগণিত বাঁশের সাঁকো।

বিলাঞ্চলের মানুষের ধারণা জন্মেছে বিলে রাস্তা পাবে কোথায়, খালই তাদের রাস্তা, নৌকাই তাদের গাড়ি। এভাবেই প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। এ উপজেলায় ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪৩টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার অধিকাংশই বিলাঞ্চলে অবস্থিত।

এ সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করলেও প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান দিয়ে চলেছেন। দেউলবাড়ি ইউনিয়নের ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কীভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈঠা বেয়ে নৌকায় বিদ্যালয়ে আসছে। বিলডুমরিয়া গ্রামের আবদুল কাদের সেখ জানান, আমাগো বিলে জন্ম, বার মাস নৌকা ব্যবহার করতে হয়। আমাগো নৌকা ছাড়া উপায় নেই, নৌকাই আমাগো রাস্তা।

ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রীতা খরাতী জানান, এ বিদ্যালয়ের আমরা ৫ জন শিক্ষকই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছি। এ ছাড়া আমাদের বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী যাদের উপবৃত্তি নেই, তারপরেও অভিাবকবৃন্দ এই বিলাঞ্চলে অধীর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য থেকে যেভাবে হোক তাদের ছেলে মেয়েদেরকে প্রতিদিন নৌকায় করে বিদ্যালয়ে পাঠান।

আমরা সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করে এ দুরবস্থা থেকে এ বিলাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক এবং শিক্ষর্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করুন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাশার জানান, আমরা নাজিরপুরের শিশুদের শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ৪৪টি বেসরকারি ও ১৭টি কেজি স্কুলের শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা সমন্বয় করে শিশু শিক্ষা ত্বরান্বিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন ও বেতন ভাতাদি সন্তোষজনক তবে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও বেতন ভাতাদি এখনো পর্যন্ত মান সম্মত অবস্থায় পৌঁছায়নি।

তাই শিশু শিক্ষার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। এই মর্মে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ নিতীনির্ধারকরা এ সমস্ত বিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন ও জাতীয়করণের চিন্তা ভাবনা করছে। কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে নাজিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৪/২০২৩       

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.