নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে (ইউআরসি) কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের ‘সহকারী ইনস্ট্রাক্টর’ পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকেরা। একই সঙ্গে একাডেমিক এ পদে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবি জানানো হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোট পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হচ্ছে-সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত না পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না প্রশিক্ষণ বিহীন ইত্যাদি কোনো প্রকার বৈষম্য রাখা যাবে না। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রাপ্তির সকল জটিলতা নিরসন করতে হবে। উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে (ইউআরসি) কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের ‘সহকারী ইনস্ট্রাক্টর’ পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখের প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহকে ভ্যাকেশনাল ডিপার্টমেন্ট আখ্যায়িত করে অন্যান্য শিক্ষা বিভাগের তুলনায় ছুটি কমিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক। অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মত ছুটি রেখে প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি ননভ্যাকেশনাল হিসেবে গণ্য করতে হবে। পদোন্নতির সকল প্রকার জটিলতা নিরসন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদান ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন এবং প্রধান শিক্ষকদের সিনিয়রিটি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদ থেকে পরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতি দিতে হবে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে ৯ম পে স্কেল ঘোষণা করতে হবে এবং ৯ম পে স্কেল ঘোষণার আগেই ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দাবির স্বপক্ষে আগামী ১৮ মে বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হবে। এরপরেও দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া না গেলে পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে ।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, ইউআরসির ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা কোনো একাডেমিক পদধারী কর্মচারী নন। সে কারণে ইউআরসির ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা কোনোভাবেই ‘একাডেমিক ট্রেইনার’ বা ‘একাডেমিক সুপারভাইজারে’র কোনো পদে চলতি দায়িত্ব বা পদোন্নতি পাওয়ার অধিকারী নয়। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদগুলো দ্বিতীয় শ্রেণির পদ এবং সমপদ বা সমপদমর্যাদার। সেখানে প্রধান শিক্ষকদের পদায়ন করতে আপত্তি কোথায় ? সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি না দিয়ে তাদের পাশ কাটিয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া সারা দেশের প্রাথমিকের প্রায় চার লাখ শিক্ষককে হেয় বা অমর্যাদা করার শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা। সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গাজীউল হক চৌধুরী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি সুব্রত রায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি কামরুল হাসান ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী প্রামাণিক, মহিলা সম্পাদিকা বাঁধন খান পাঠান ববি, সহ সভাপতি ফজলুর রহমান, মীর মহিবুর রহমান, মুন্সি জাহিদুল হক, মঈনুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম, মো. ইউসুফ, নুরুল আবছার, আরিফ দেওয়ান, দপ্তর সম্পাদক কামাল বকশী, ধামরাই উপজেলা সভাপতি মো. রবিউল করিম প্রমুখ।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৮/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
