নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ কৃষিই বাংলাদেশের মূল চালিকা শক্তি। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তায় দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেকগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য দেশে রয়েছে ছয়টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়।
আসন সংখ্যা
দেশের ৮টি কৃষি প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪৯০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। এর ভেতরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১১৬ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬০ জন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৪ জন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এ ৪৪৩ জন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪৫ জন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১ জন, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০ জন, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হবার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি ও পশুপালন ছাড়াও শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য বেশকিছু বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক বিষয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা কৃষি অনুষদ, ভেটেরিনারি অনুষদ, পশুপালন অনুষদ, এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ফিশারিজ অনুষদ, এগ্রিনিজনেজ ম্যানেজমেন্ট অনুষদ, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, বায়োটেকনলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদসহ আরো বেশকিছু অনুষদে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে থাকে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদনে যা প্রয়োজন
বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষাটি গুচ্ছ পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। যেখানে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়দের মিটিং এ আবেদন যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দেশের আটটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক বা সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চতুর্থ বিষয় ব্যতীত ৩.৫ এবং চতুর্থ বিষয় সহ ৪.০০ জিপিএ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়াও উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয় থাকতে হবে। অনেকেই ভেবে ভুল করে থাকেন বিজ্ঞান, মানবিক বা বাণিজ্য শাখা থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়। তবে শুধু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হবার সুযোগ পেয়ে থাকেন দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও ফলাফল
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধুমাত্র ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিয়ে থাকে ভর্তি পরীক্ষা কমিটি। পরীক্ষায় ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিত বিষয়ে Multiple Choice Question (MCQ) পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে ইংরেজিতে ১০, জীববিজ্ঞানে ৩০, রসায়ন ২০, পদার্থবিজ্ঞানে ২০ এবং গণিতে ২০টি করে প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরে ১ মার্ক্স এবং ভুল উত্তরে .২৫ করে মার্ক্স কাটা হয়।
পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল সমন্বয়ে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৫/০৪/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
