অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য এশিয়া কিংবা ইউরোপে পড়তে যেতে চান। কেউ যান সম্পূর্ণ নিজ খরচে আর কেউ কেউ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে। একটু খোঁজ-খবর রাখলেই পেয়ে যেতে পারেন আপনার কাঙ্খিত বৃত্তি। নিচে বেশ কয়েকটি বৃত্তির খোঁজ-খবর দেওয়া হলো।
চেভেনিং স্কলারশিপ (যুক্তরাজ্য)
যুক্তরাজ্যের চেভেনিং স্কলারশিপ আরও একটি সম্মানজনক বৃত্তি কার্যক্রম। যুক্তরাজ্যের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস (এফসিও) এবং অংশীদার সংগঠনগুলো এটি প্রতিষ্ঠা করে। যুক্তরাজ্য সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তি প্রোগ্রাম এটি। ১৯৮৩ সালে এই বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় চেভেনিং স্কলারশিপ ও চেভেনিং ফেলোশিপ দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের দূতাবাস ও হাইকমিশন বৃত্তি নির্ধারণ চেভেনিংয়ের বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপে আবেদনের পদ্ধতি বিভিন্ন। কিছু স্কলারশিপ একাডেমিক রেজাল্টের ওপর আর কিছু স্কলারশিপ কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ এবং ফেলোশিপ কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। যুক্তরাজ্যে উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন শেষে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা নিজের দেশে ফিরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন, সেই লক্ষ্যে এই বৃত্তি দেওয়া হয়। তারা এক বছরের মাস্টার্স বা সমমান কোর্স এবং তিন বা চার বছর মেয়াদি ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করার সুবিধা দেয়। এই বৃত্তির অধীনে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, বিজ্ঞান (বিশুদ্ধ ও ফলিত) কৃষি, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এ স্কলারশিপের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম
যারা ইউরোপে পড়াশোনা করতে চান, তাদের জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম নামের বৃত্তি কাজে লাগতে পারে। ইরাসমাস মুন্ডাস ইউরোপে পড়াশোনার জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি বৃত্তি কার্যক্রম। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটি চালু করে। এর লক্ষ্য উচ্চতর শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো এবং একাডেমিক সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণ ও সংস্কৃতির মধ্যে যোগাযোগ এবং বোঝাপড়া উন্নত করা। এটি শিক্ষার্থীদের ইউরোপের অন্তত দুটি দেশে যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য পড়ালেখার সুবিধা দেয়। এই বৃত্তির আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৩০টির বেশি মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কৃষি ও ভেটেরিনারি, প্রকৌশল, উৎপাদন ও নির্মাণ, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, মানবিক ও কলা, বিজ্ঞান, গণিত ও গণনা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায়, আইন বিষয় ইউরোপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এ বৃত্তি দারুণ সুযোগ। প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই এ সুযোগ হাতছাড়া করেন। এ বৃত্তির জন্য আইইএলটিএসে ভালো স্কোর গুরুত্বপূর্ণ।
চীনে বৃত্তি
এশিয়ার দেশ চীনও এখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে শুরু করেছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশ থেকেই শিক্ষার্থীরা এখানে আসছেন পড়াশোনা করতে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ যখন শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপের সংখ্যা হ্রাস করছে, তখন চীন স্কলারশিপের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক গুণ। স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে যা যা প্রয়োজন তা হলো- অন্তত ছয় মাসের মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট, নোটারি কর্তৃক সত্যায়িত সব নম্বরপত্র এবং সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফরেন মেডিকেল সার্টিফিকেট, স্টাডি পল্গ্যান, আইইইলটিএস সার্টিফিকেট অথবা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা হয়েছে এমন একটি সার্টিফিকেট, দুটি রিকমেন্ডেশন লেটার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনপত্র, স্কলারশিপের জন্য আবেদনপত্র পূরণ করা। স্কলারশিপের আবেদন সংক্রান্ত সবকিছু ওয়েবপেজে উল্লেখ আছে। স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য নিচের ওয়েবপেজগুলো দেখা যেতে পারে। সিএসসি স্কলারশিপ(www.csc.edu.cn) (www.cscscholarship.org/mofcon).
কেজিএসপি (কোরিয়ান সরকারি বৃত্তি)
আপনি যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুন না কেন, এই বৃত্তিটিতে আপনাকে বাধ্যতামূলক কোরিয়ান ভাষা শিখতে হবে প্রায় এক বছর। সেটির পুরো খরচ অবশ্য কর্তৃপক্ষই বহন করবে। এ বৃত্তিটিতে আবেদন করতে আইইএলটিএস স্কোরের কোনো প্রয়োজন নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান ছাড়া প্রায় সব জেনারেল বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। তবে শর্ত হচ্ছে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন, তথা এইচএসসিতে গড়ে পেতে হবে অন্তত ৮০ শতাংশ নম্বর। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ভেতর যে কোনো সময় সার্কুলার হবে, চোখ রাখুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
