এইমাত্র পাওয়া

শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজ অনিয়ম লুটপাটের আখড়া

অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ। ৯ বছরে তিলে তিলে জমানো ৮৬ কোটি টাকার মধ্যে ২২ কোটিই গত দু’বছরে হাওয়া হয়ে গেছে। এর পেছনে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি মূল ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর সভাপতি আবার বেসরকারি কলেজগুলোর তত্ত্বাবধানকারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটেরও সদস্য হওয়ায় বেপরোয়া বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুনর রশীদ প্রতিষ্ঠানটির অর্থ নয়ছয় করা ছাড়াও সরকারি নিয়ম ভেঙে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার মতো বিতর্কিত কাজে জড়িত। কলেজ থেকে ৮৪ হাজার টাকা নিয়ে মোবাইল কেনা ছাড়াও নানাভাবে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৬৫ হাজার টাকার বেশি নিচ্ছেন তিনি। কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বেহুদা অনেক সভার নামে সম্মানী গ্রহণ করেন তিনি। এভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে সভা পরিচালনা ও ব্যয় করা, অবৈধ শিক্ষক পদোন্নতি, বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা কলেজের স্থায়ী আমানত ভেঙে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে আরেক ব্যাংকে রাখার মতো কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক হারুন।

এ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার কলেজের শিক্ষক পরিষদের সভায় নানা অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতি অধ্যাপক হারুনও এতে অংশ নেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সমন্বয়ে কলেজে বিশদ তদন্ত চালানো হবে। এতে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে। সেখানে আরও সিদ্ধান্ত হয়, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পরিচালনা পর্ষদের আর কোনো বৈঠক করা যাবে না।

অর্ধশতাব্দী পুরোনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেন। এখানে শিক্ষক রয়েছেন ১০৬ জন।

সংশ্নিষ্টদের অভিযোগ, অধ্যাপক হারুন প্রতিষ্ঠানটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। দুর্নীতিবাজ কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যদের দুর্নীতি ও অপরাধ আমলে নেন না তিনি। বিপরীতে তার অন্যায়-অপকর্মের প্রতিবাদকারীদের শায়েস্তা করতে বানোয়াট অভিযোগ তুলে কোণঠাসা করে থাকেন। তার প্রতিহিংসার সর্বশেষ শিকার প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রহমান এবং বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজাদুল ইসলাম।

কলেজের জন্য জমি কেনায় অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় আজাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও গঠন করা হয়েছে আরেক তদন্ত কমিটি। কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের আগেই তিনি দু’জনকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত ২৩ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডেকে সভাপতি অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করতে গেলে শিক্ষকরা তাকে ঘেরাও করেন। পরদিন সকালেও শিক্ষকরা এ নিয়ে কলেজে বিক্ষোভ করেন। এসব ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারি সংশ্নিষ্ট দপ্তরে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে শিক্ষকরা এসব বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। তিনি সমকালকে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কলেজের শিক্ষার মান ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে বর্তমান সভাপতি আসার পর একাডেমিক উন্নয়নের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী গচ্ছিত অর্থ ভেঙে জমি কেনাসহ তথাকথিত উন্নয়ন শুরু হয়। কলেজের পাশে জমি না কিনে বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জে বিচ্ছিন্ন এলাকায় জমি কেনা হয়। অথচ কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরির কোনো নিয়মই নেই। তা ছাড়া খ জমি কোনো কাজেও আসবে না।

সভাপতি তার নির্দেশমতো বেআইনি কাজ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তবে লিখিত কোনো আদেশ দেন না। সর্বশেষ নির্বিচারে জমি কেনা ও নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, সভাপতি নিয়ম-বহির্ভূতভাবে মোবাইল ফোনসেট কেনার নামে কলেজ থেকে ৮৩ হাজার ৯৬০ টাকা নগদ নিয়েছেন। পাশাপাশি বিধি-বহির্ভূতভাবে তিনি টেলিফোন ভাতার নামে মাসে চার হাজার করে টাকা নেন। কলেজ থেকে টাকা লুটের লক্ষ্যে তিনি বৈঠক বাণিজ্য করে থাকেন। তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নের নামে আটটি কমিটি গঠন করেছেন যার সবক’টির উপদেষ্টা তিনি। ওইসব কমিটি মূলত করা হয় বৈঠক বাণিজ্য করার জন্য। প্রতিটি বৈঠক থেকে তিনি সম্মানী নেন।

এক হিসাবে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে তিনি প্রতি মাসে গড়ে ৬৫ হাজার ৬৫৪ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ কমিটি বাবদ দুই লাখ ৬৩ হাজার, পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের জন্য দুই লাখ ২ হাজার, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাবদ ৮০ হাজার, মোবাইল বিল ৪৮ হাজার, ক্লাসে পড়ানোর জন্য দুই লাখ এবং পদোন্নতি কমিটির বৈঠকের জন্য ৩০ হাজার টাকা। অভিযোগ আছে, তিনি উন্নয়নের নামেও অর্থ লুটপাট করছেন। যে কক্ষে টাইলস লাগাতে ছয় বস্তা সিমেন্ট দরকার, সেখানে ৫৬ বস্তা সিমেন্টের ভাউচার দেখানো হয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, কলেজের সভাপতি হয়েও হারুনর রশীদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে সাধারণ শিক্ষকের মতো অর্থের বিনিময়ে কলেজে ক্লাস নেন। সরকার ঘোষিত বিশেষ ছুটি এবং জাতীয় শোক দিবসেও ক্লাস নেন তিনি।

নিয়োগে দুর্নীতি :বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়ম-বহির্ভূতভাবে কলেজে ৪৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। ওই নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার পর সেখানেই উত্তরপত্র দেখার রীতি আছে। তবে তার নির্দেশে প্রত্যেক পরীক্ষার পর উত্তরপত্র নিজের নিয়োগ করা বিশেষজ্ঞরা সঙ্গে নিয়ে গেছেন। এরপর মর্জিমতো ১০-২০ দিন পর ফল ঘোষণা করেছেন। এতে ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এখানেই শেষ নয়, নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি সরকারের আইনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান। প্রথমে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়- প্রার্থীদের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করতে হবে। কিন্তু পরে আরেক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, নিবন্ধন সনদের দরকার নেই। বিসিএস পাস একজন ক্যাডার কর্মকর্তা শুরুতে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার টাকা পেলেও তিনি প্রভাষকদের ৪০ হাজার টাকা বেতন ধার্য করেছেন। এসব অপকর্ম প্রার্থী নিয়োগে ঘুষের দর বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে বলে মনে করেন কলেজের শিক্ষকরা। এ নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও আছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে সভাপতির পিএইচডি প্রোগ্রামের ছাত্রী এবং তার স্বামীও আছেন। পরিচালনা পরিষদে শিক্ষক প্রতিনিধি নুরুন্নাহার বেগমের ভাগ্নিও নিয়োগ পেয়েছেন। ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক আরিফুর রহমানের ভাইকে হিসাব রক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সভাপতি কিছু অপ্রয়োজনীয় নিয়োগও দিয়েছেন। এ কারণে কলেজের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে, যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নজিরবিহীন। যেমন- পরিবেশ বিজ্ঞানে শিক্ষকের দরকার নেই। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত তিনজন নিয়োগ দিয়েছেন। এভাবে আরও কয়েকটি বিভাগ আছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে দু’জনের কোনো বিভাগই (ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি) নেই। ওইসব শিক্ষককে বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। এর পরও সর্বশেষ মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। অথচ এই নামে কলেজে কোনো বিভাগই নেই। জানা গেছে, একদিনে একাধিক বিষয়ের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রতি বিষয়ের জন্য পৃথক পৃথক সম্মানী নেন সভাপতি।

জমি কেনায় হরিলুট :বোরহানুদ্দীন কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে কলেজ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নে গ্রামের মধ্যে প্রায় ৪০০ শতক কৃষি জমি কেনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এক বৈঠকে শিক্ষকরা বিষয়টি উত্থাপন করলে চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেন সভাপতি।

জানা গেছে, মোট তিন দফায় জমি কেনা হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৬২ শতাংশ জমি কেনায় এক কোটি ৩১ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়। এখানে ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার একটি জাল দলিল হয়। জমির মালিক চারজন। তারা হলেন মো. সলিমুল্লাহ, মো. কলিমুল্লাহ, মো. হাবিবুল্লাহ ও মো. অলিউল্লাহ। তাদের পক্ষ থেকে মো. সাইদুল ইসলাম নামে একজনকে আমমোক্তার সাজিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। কিন্তু ওই চার ভাই জানান, এ নামে কাউকে তারা আমমোক্তার নিয়োগ করেননি। এমনকি এ নামে কাউকেই তারা চেনেন না। তারা নিজেরাও জমি বিক্রি করেননি।

মিনহাজ উদ্দিন নামে একজনের কাছ থেকে ৫৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকার জমি কেনা হলেও তিনি মাত্র ৩৪ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে জানান। এভাবে কলেজ থেকে ৫০০ শতক জমি কেনার নামে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ জমির রেজিস্ট্রেশন বাবদ এক কোটি ৪১ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় কেনা ২৬২ শতক জমির দলিল কলেজে জমা পড়েছে। এ জমি কেনায় রেজিস্ট্রেশন বাবদ ১৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, জমি কেনার দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের পথ সহজ করতে কলেজের এ সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক আবু নাঈম মো. রাফীর নিকটাত্মীয়ের ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান সারা রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই জমির বায়না সূত্রে মালিক প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শাহ আলম। সে অনুযায়ী জমি কেনার কথা শাহ আলমের কাছ থেকে। তবে জমি কেনা হয় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে। অথচ শুধু জমি কেনার চুক্তি করেই শাহ আলমকে টাকা দেওয়া হয় এক কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার ১৬০ টাকা। সব মিলিয়ে জমি কেনা খাতে অন্তত আড়াই কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জমি কেনার দলিল ও নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জমির মূল্য চেকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা থাকলেও অর্থ আত্মসাতের সুবিধার্তে তা নগদেও পরিশোধ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় কলেজের জন্য ৮৫ শতক জমি কেনা হয়। এ জমি কেনার পুরো লেনদেনই নগদে করা হয়। অথচ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছিল, পে অর্ডার ছাড়া অর্থ ব্যয় করা যাবে না এ খাতে। আর তৃতীয় দফায় কেনা জমির কোনো তথ্যই জানা যায়নি।

কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক তাসলিমা বেগম সমকালকে বলেন, এসব বিষয়ে কমিটির সভায় আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, ওয়াকআউট করেছেন। তিনি তদন্ত চেয়েছেন। অধ্যাপক তাসলিমা বলেন, জমি কেনায় অর্থ লোপাট হয়েছে কি-না তা জানি না, তবে নিঃসন্দেহে অনিয়ম হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক এই চেয়ারম্যান জানান, অর্থ লোপাট না হয়ে থাকলে তদন্ত হলে অসুবিধা কি?

আরও যত অভিযোগ :বিভিন্ন ব্যাংকে কলেজের অর্থ স্থায়ী আমানত রেখে সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আছে সভাপতির বিরুদ্ধে। আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্য তিনি তফসিলি ব্যাংকের এফডিআর ভাঙিয়ে লিজিং কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে অধ্যক্ষকে চাপ দেন। সর্বশেষ একটি লিজিং কোম্পানিতে টাকা রাখার উদ্যোগও নেন। যদিও অর্থ কমিটি তা নাকচ করে। এ জন্য তিনি অধ্যক্ষকে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেন।

কলেজের ব্যয় ও নিরীক্ষা করানো হয় পছন্দের লোক দিয়ে। এসব বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে বিব্রতবোধ করেন।

সভাপতির বক্তব্য :কলেজের এসব অনিয়মের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুন সমকালকে বলেন, ‘আজই সিদ্ধান্ত হলো সরকারি তিন সংস্থার সমন্বয়ে কলেজে তদন্ত করা হবে। তাতে যদি আমি দোষী সাব্যাস্ত হই, শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একচুল অন্যায় করিনি।’

তিনি বলেন, জমি কেনায় কোনো সমস্যা নেই। এখন ওই জমিতে ফুটবল খেলা সম্ভব। জমি কেনায় যত প্রক্রিয়া আছে সব অনুসরণ করা হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটি করা হয়েছে, বায়না করা হয়, জমিতে বায়নার সাইনবোর্ড টাঙানো হয়, এরপর জমি কেনা হয়। ৬ একর জমি কিনেছেন। ৫ ধাপে জমি কেনা হয়েছে। এমনও জমি আছে, যা এখন আগের মালিককে তা ফেরত দিলে তিনি আরও বেশি দাম দিতে রাজি হবেন।

অধ্যাপক হারুন বলেন, ‘সবাই এখন তদন্ত তদন্ত করছে, সবাই তদন্ত চায়। তাই আমিও চাই। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রতিটি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। আমি ক্লাস নিলে কী অসুবিধা? কোনো কোনো বিভাগে একজন মাত্র শিক্ষক।’

সভাপতি বলেন, আসল কথা হলো কলেজের এখন অনেক টাকা। বিশ্বব্যাংক থেকেও টাকা আসে। এসব টাকা বিভিন্ন জায়গায় রেখে অধ্যক্ষ পার্সেন্টেজ খান। তিনি তা বন্ধ করেছেন। সামনে কলেজের প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার নির্মাণ কাজ আছে। তাকে কোনোভাবে সরানো গেলে তারা কমিশন খেতে পারবেন। তাদের সুবিধা হয়। তিনি বলেন, কলেজে এখন যা ঘটছে তাতে তিনি খুবই মর্মাহত।সুত্র সমকাল


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.