নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ দেশজুড়ে রয়েছে কয়েক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বেশকিছু বিদঘুটে ও শ্রুতিকটু নাম। তবে এসব নাম আর থাকছে না। দ্রুতই শ্রুতিকটু নাম বদলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নেতিবাচক এবং শিশুমনে বিরূপ প্রভাব ফেলে এমন নামগুলো সংশোধনে চলতি বছর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের পর নাম বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রণয়ন করা হয়েছে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ ও বিদ্যমান নাম পরিবর্তন নীতিমালা-২০২৩’।
এতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম শ্রুতিকটু ও নেতিবাচক এবং শিশুমনে ও জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে এমন বিবেচিত হলে তা বদলানো যাবে। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে বিদ্যালয়ের নামকরণ হয়ে থাকলে বা আদালতের
বিশেষ কোনো নির্দেশনা থাকলে বদলানো যাবে। ভূমিকম্প, নদীভাঙনসহ নানাবিধ কারণে বিদ্যালয়ের নামের দ্বৈততা বা জটিলতা দেখা দিলে নাম বদলানো যাবে।
নতুন নামকরণ কীভাবে হবে তারও ব্যাখ্যায় নীতিমালায় রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যক্তি বা বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করা যাবে। তবে রাষ্ট্রবিরোধী, ফৌজদারি, দেওয়ানি ও দুর্নীতির অপরাধে অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্তদের নামে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা যাবে না। এ ছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে এলাকার নাম অনুসারেও নামকরণ করা যাবে। স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা সাপেক্ষে নাম পরিবর্তন করা যাবে।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিদঘুটে ও শ্রুতিকটু নামের বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে- মাংগীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুমাচুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোদা প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনা পোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাড়া গোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোমরভাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুকুরমারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুকুরপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাক ফাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাথা ভাঙা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, দাঁতভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাগল খাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কানার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাপখাওয়া মাদ্রাসা, নুনখাওয়া বালিকা বিদ্যালয়, মহিষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেড়ামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিয়ালখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুধ খাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌড়ের বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, হনুমানের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাটিকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছালাভরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাঁসিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উল্টা ডাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাছার বাজার বিদ্যালয়, গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় ধনগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনা কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাড়া দেওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
যেভাবে পরিবর্তন হবে…
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাদা কাগজে যৌক্তিকতা উল্লেখ করে আবেদন অথবা প্রস্তাব করতে হবে। এর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সুপারিশ, বর্তমান নামের প্রমাণক হিসেবে পিইএমআইএসে স্কুলের নামের তালিকার সত্যায়িত কপি আবেদনের জন্য জমা দিতে হবে।
আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সভায় নাম পরিবর্তন চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজসহ সব প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সংশোধিত নাম অন্তর্ভুক্ত করবে। পরে স্থানীয় সব সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানকে তা জানানোর পাশাপাশি এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সব অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সব ডাটাবেজে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করা হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/০৩/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
