আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ইয়াসিন মোল্লা, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিবেদকঃ

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির গৌরবময় অহংকার

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সাধনা, সংগ্রামের ইতিহাস। কানাডা প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালামের প্রতিষ্ঠিত “The mother language lover of the world” সংগঠন ১৯৮৮ সালের ২৯ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করে একটি চিঠি পাঠান। এ চিঠিতে সাত জাতি ও সাত ভাষার দশজন স্বাক্ষর করেন। এর এক বছর পর, ইউনেস্কো সদর দফতরের ভাষা বিভাগের আন্না মারিয়া রফিকুল ইসলামকে ১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ সম্মতিসূচক চিঠি লেখেন, Regarding your request to declare the 21 February as International Mother Language day. The idea is indeed very interesting. অবশেষে Bangladesh National Commission-এর পক্ষে সচিব কফিল উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে প্রস্তাবটি ইউনেস্কো সদর দফতরে পেশ করেন। ইউনেস্কোর ২৮ টি সদস্যরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রস্তাব লিখিতভাবে সমর্থন করে। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আর বাংলাভাষাভাষী মানুষের কাছে শোকার্ত দিন নয়। ২১ শে ফেব্রুয়ারি এখন গোটাবিশ্বের মাতৃভাষা দিবস। রক্তের আলপনা এঁকে যে ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে আমাদের বাঙালি সন্তানরা, রাজকীয় ভাষা হিসেবে। তাঁদের আন্দোলনের সূত্র ধরেই ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তারাই আমাদের গর্বিত ধন, তারাই আমাদের মাতৃভাষার প্রতিষ্ঠাতা।একুশ আমাদের অহংকার। আমাদের জাতিসত্তার একটি প্রধান অংশ। স্বাধিকার আন্দোলন শুরু হয়েছিল ভাষাকে কেন্দ্র করেই। চূড়ান্ত পরিণতিতে আমরা পেয়েছি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

শেখ জাহাঙ্গীর আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩য় বর্ষ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

“আমার বর্ণ
আমার গর্ব “-??

বাঙ্গালীর ইতিহাসের চিরসম্মরণীয় দিন ২১ ফেব্রুয়ারি।১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির মুখের ভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য লক্ষ লক্ষ সৈনিক প্রাণ দিয়েছে,নিঃসন্তান হয়েছে শত মা।বাঙালির নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের ভাষা এই বাংলা ভাষা।বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে অর্জন করার ইতিহাস যতই রক্তে মাখানো হোক না কেন!তার প্রতি অবহেলা এখন তিব্র।
আমার বর্ণ আমার গর্ব এখন হয়ে যাচ্ছে স্লোগান মাত্রই।এই স্লোগানের উদ্দেশ্য এখন প্রশ্নের মূখে!!

আজকাল দোকান-পাট, ব্যানারে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বেশি।নিজেকে স্মার্ট, আধুনিক, উচ্চশিক্ষিত বোঝাতে এখন ইংরেজি ভাষার বিকল্প নেই।বর্তমানে বাংলা ভাষার বিকৃতি করার বড় মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। বিভিন্ন ভাষার মিশ্রনে বাংলা ভাষার বিকৃতি হচ্ছে। ধারণা করা যাচ্ছে,২১০০ সালের মধ্যেই বাংলা ভাষা পরাশ্রয়ী ভাষার রূপ নিবে।
বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে হলে বন্ধ করতে হবে ব্যানার,পোস্টারে বিদেশি ভাষার ব্যবহার, সচেতন হতে হবে ভাষা প্রয়োগে।তবেই বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ভাষা শহীদের সম্মান রক্ষা পাবে।

অবন্তীকা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ১ম বর্ষ, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ

বাংলা ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন

ফেব্রুয়ারী মাস হলো ভাষার মাস। ফেব্রুয়ারী মাস হলো অমর মাস। এই মাসে ভাষার জন্য নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয় শত শত আমাদের ভাষা শহীদ ভাইয়েরা “ছেলে হারা শত অশ্রু ঝরা এ ফেব্রুয়ারী আমি কী ভুলিতে পারি”

কিন্তু দুঃখজনক হলেও বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সঠিক বাংলা ব্যবহার ও উচ্চারণের ব্যাপক অভাব। নিজের মায়ের ভাষাকে বাদ দিয়ে তারা ব্যাপকহারে বিদেশি ভাষার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে করে বাংলা ইংলিশ এর সংমিশ্রণ তৈরি হচ্ছে এবং সঠিক বাংলার ব্যবহার ব্যহত হচ্ছে। আসুন আমরা বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার শুদ্ধ উচ্চারণ ও চর্চা করি। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা, বর্তমান প্রজন্মকে অবশ্যই নিজ মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে এবং যথাযথ সন্মানার্থে অবশ্যই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে সদয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

নামঃ হৃদয় খাঁন

ডিপার্টমেন্টঃ হিসাববিজ্ঞান

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২১/০২/২৩    


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.