মক্কাবাসীর প্রবল অত্যাচারে যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মানসিকভাবে জর্জরিত ছিলেন, তখন মিরাজের ঘটনা ছিল রাসূল (সা.)-এর জন্য মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ব্যাপারে আশাবাদ তৈরি ও ইসলাম বিজয়ের আত্মবিশ্বাস অর্জনের এক অনবদ্য নিয়ামক।
মুসলমানদের পরীক্ষা করাও ছিল মিরাজের ঘটনার একটি উদ্দেশ্য। অনেক দুর্বলচিত্তের মুমিন মিরাজের ঘটনা বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও তার মতো মুমিনরা শোনামাত্রই বিস্মময়কর এই মুজিজার প্রতি ঈমান আনেন।
মিরাজের ঘটনার পর নাজিল হওয়া সূরা বনী ইসরাঈলে বর্ণিত ১৪টি মূলনীতি ছিলো- ইসলামের সমাজ বিনির্মাণের মূল মেনিফেস্টো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধানসহ মূল কিছু ইসলামের বিধান মিরাজের ঘটনার সময় নাজিল হয়। জান্নাত-জাহান্নামসহ আল্লাহতায়ালা সঙ্গে কথা বলার সুযোগ প্রাপ্তি, নবী-রাসূলদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ- এগুলো হলো রাসূল (সা.)-এর জ্ঞানার্জনের উৎস।
মিরাজের ঘটনা শুধুমাত্র একটি অলৌকিক কোনো কাহিনি নয়। বরং মুমিন জীবনের জন্য শিক্ষণীয় একটি নিদর্শন। মিরাজের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) জাহান্নামের এক একটি দলের অপরাধ ও শাস্তির যে ঘটনাগুলো চাক্ষুস করেন, শুধু সেগুলোও যদি আমরা বিশ্লেষণ করি; তাহলে আল্লাহতায়ালার শাস্তির ভয়ে হলেও সমাজের তাবৎ ভুল-ত্রুটি ও অপরাধ সংশোধন হতে বাধ্য।
মেরাজের কয়েকটি শিক্ষা তুলে ধরতে চাই-
১. আল্লাহতায়ালার ইবাদত ব্যতীত অন্য সব সত্তার ইবাদত নিষিদ্ধ।
২. বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম-মিসকিনদের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতিমালা। বিশেষ করে তাদের অধিকারের কথাগুলো খুব স্পষ্টভাবে এসেছে- এগুলো মানা। আত্মীয়-স্বজন, মিসকিন ও মুসাফিরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হলেও তাদের প্রতি নরম ভাষায় কথা বলা।
৩. সম্পদ ব্যবহারের সুষম নীতিমালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অপচয় ও কৃপণতা উভয়কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. ব্যভিচারের সঙ্গে এর সহায়ক সব ধরনের উপকরণ, পথ, পন্থা ও মাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫. দারিদ্র্যের অভাবে সন্তান হত্যা না করা। রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
৬. অনুমান নির্ভর কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যা সবধরনের ভুলের সূত্রপাত করে।
৭. নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা, যা কি চূড়ান্ত পর্যায়ের বিপর্যয় সৃষ্টি করে; তা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আত্মহত্যাও কার যাবে না।
৮. লেন-দেন, বেচাবিক্রির ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা, অনৈতিকতার সব পথ রুদ্ধ করে ওজনে কমবেশি করাকে হারাম করা হয়েছে।
৯. পারস্পারিক সম্পর্ক রক্ষা, সম্পর্কের হক আদায়ের অন্যতম মূল শর্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর জোরালোভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কৃপণতা ও অপব্যয় দু’টোই পরিত্যাগ করা।
১০. অহংকার সব ধরনের অরাজকতার মূল উৎস। দাম্ভিক মানুষ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভুল আচরণ করে। অহংকার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
হে আমাদের রব! আমাদের সঠিক পথে চলবার সুযোগ করে দাও। পবিত্র এই দিনের শিক্ষা নিয়ে পুরো জীবন চলার তৌফিক দান কর-
লেখক-ডক্টর মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/জামান/১৭/০২/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
