এইমাত্র পাওয়া

যে ভালোবাসায় ঈমান পূর্ণতা পায়

বসন্ত ও রবিউল আউয়াল :

‘ফাল্গুনে শুরু হয় গুনগুনানী

ভেমরারা গান গায় ঘুম ভাঙানি”

—ফররুখ আহমেদ

এমনই পুলক জাগানিয়া ক্ষণে আবির্ভূত হন বিশ্বনবী (সা.)। ‘রবিউল আওয়াল’ অর্থ বসন্তের প্রারম্ভ। মরুর ঊষর-ধূষর প্রান্তরে নবীর (সা.) আগমন প্রতীক্ষায় প্রকৃতি সেজে ছিল মায়াবীরূপ সজ্জায়। তিনি মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন। তবে সেই ভালোবাসার প্রচলিত ভালোবাসা থেকে ভিন্ন ছিল। ইসলামের দৃষ্টিতে ভালোবাসার প্রকৃতি ভিন্নতর। যেমন—

আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা : ঈমানদারের ভালোবাসা প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের বাণী—আল্লাজিনা আমানু আসাদ্দু হুব্বাল্লিল্লাহ অর্থাৎ ‘মুমিনদের সর্বাধিক (মুহাব্বত) প্রেম হবে আল্লাহর জন্য।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৫)

রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা : রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার মূল্য বিপুল-বিশাল। আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ভালোবাসতে হবে প্রিয় নবী (সা.)-কে : ‘(বলুন) যদি তোমরা আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাও তবে (আমি রাসুল) আমার আনুগত্য করো। তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)

নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার নমুনা : প্রিয় নবী (সা.)-এর নিদ্রা ভঙ্গের আশঙ্কায় হিজরতের সময় সাপের গর্তের মুখে পা চেপে রেখেছিলেন আবু বকর (রা.)। হিজরতের কঠিন সময়েও আমানতের মাল ফেরত দেওয়ার জন্য, মৃত্যু ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে শত্রু পরিবেষ্টিত ‘নবীগৃহে’ বিছানায় শুয়ে ছিলেন আলী (রা.)। ওমর (রা.) চিৎকার করে বলেছিলেন, আমি আপনাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।’ প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘তাবুকের যুদ্ধে’ আবু বকর (রা.) তাঁর সম্পদের সবটুকু এবং ওসমান (রা.) তাঁর সম্পদের অর্ধেক নিবেদন করেছিলেন। প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার কারণেই আবু হুরাইরা (রা.) পেটে পাথর বেঁধেও ‘মসজিদে নববী’তে অবস্থান করতেন। প্রিয় নবী (সা.)-এর ওফাতে বেলাল (রা.) ‘নবীবিহীন’ মদিনা মেনে নিতে পারছিলেন না।

প্রিয় নবীর ভালোবাসায় ঈমানি পূর্ণতা : প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ অনুসরণের শিক্ষা, পারলৌকিক শান্তির নিশ্চয়তা দেয়। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘যে আমার আদর্শকে (সুন্নাহ) ভালোবাসল, সে যেন আমাকেই ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল সে আমার সঙ্গেই জান্নাতে বসবাস করবে।’ (মেশকাত)

মুসলমানের পারস্পরিক ভালোবাসা : সুরা ফাতহে এ ভালোবাসার নামকরণ করা হয়েছে ‘রুহামাউ বাইনাহুম’ অর্থাৎ তারা পারস্পরিক সহৃদয়। মুসলমানের পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্যকে পবিত্র কোরআনে ‘সিসা ঢালা প্রাচীর’ বা ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ বলা হয়েছে, হাদিসে এ চেতনাকেই ‘একদেহ’ ‘এক সৌধ’ ‘একই আদমের সন্তান’ তুল্য বলা হয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘…তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি না হলে…’ (মুসলিম শরিফ)

স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা : ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রিয় নবী (সা.)-এর বিখ্যাত উক্তি—ওই লোক সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ তিনি (সা.) আরো বলেন, ‘যে নারী এমন অবস্থায় মারা যায় যে তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি)।

লেখক-

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.