লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরনো দ্বিতল ভবনটির ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে মেঝেতে। এছাড়াও একাধিক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। অনেক সময় তা রোগী ও নার্সদের গায়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাধীনতার পর ৩১ শয্যার এ হাসপাতাল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সবশেষ ২০১৬ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন দেখা যায়, ৫০ বছর আগে নির্মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবনটির ছাদ এবং দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। একাধিক জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে ভেতরের রড দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে মেঝেতে।
ফলে দুর্বিষহ কষ্ট পাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীরা। চিকিৎসাসেবায় বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসক, নার্স ও রোগীরা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। ভবনের অবস্থা এতটাই নাজুক দেখলে যে কারো মনে হবে এই বুঝি ভেঙে পড়বে।
এমন আতঙ্ক আর ভীতির মধ্যে চলছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম। হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কহিনুর বেগমসহ কয়েকজন রোগী বলেন, ‘আমাদের অনেক ভয় লাগে। না জানি কোন সময় সব ভাইঙা পড়ে।’
হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী ও শিক্ষক কাজী মো. ইউনুছ জানান, হাসপাতালটি উপজেলার তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা। অসহায় ও গরিব লোকজন এ হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়ে থাকেন।
জরাজীর্ণ এ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এখানে নতুন ইমারত নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী (সিনিয়র স্টাফ নার্স) ফয়জুন্নেছা ও খাদিজা আক্তার বলেন, ‘চাকরির কারণে বাধ্য হয়ে রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে। সবসময় প্রাণে ভয় থাকে এই বুঝি ভেঙে পড়ছে ভবন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের পাটোয়ারী ভবনটির জরাজীর্ণের কথা উল্লেখ করে জানান, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ১০০ শয্যার নতুন একটি ইমারত নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
