শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ বেকারত্ব দূরীকরণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ডাটাবেজ। শিবালয় উপজেলায় করা শিক্ষিত বেকার যুবকদের ডাটাবেজের ভাণ্ডারে এখন দেড় হাজারেও বেশি বেকার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
আর এই ডাটাবেজে যারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের এ অভিনব কর্মসূচির কারণে ইতোমধ্যে ৭শ শিক্ষিত বেকার যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।
ইতোমধ্যে জেলা থেকে বেকারত্ব দূরীকরণ করতে শিবালয় উপজেলাকে পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মানিকগঞ্জের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ মিলে মোট ৮২টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
বেকার শিক্ষিত যুবকদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিবালয় উপজেলায় এক জব ফেয়ারের ( চাকরির মেলা) আয়োজন করে বিপুল সাড়া ফেলেছে। জব ফেয়ারের প্রথম দিনই ভাগ্য খুলেছে ৭৭ জন যুবকের। ডাটাবেজের তালিকা ধরে ২০ জন করে দুটি ব্যাচে গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহিদুর রহমান ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ জানান, উপজেলায় ইতোমধ্যে বেকারত্বের কুফল বোঝানো এবং বেকারত্ব দূরীকরণে করণীয় সম্পর্কে জানাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন পরিচালিত হয়েছে। এ আলোচনায় বেকার জনগোষ্ঠীসহ শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ ধর্মীয় প্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবদের সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সচিব, উদ্যোক্তা এবং বেকারত্ব দূরীকরণ বিষয়ক কমিটির সমন্বয়ে ফরম পূরণ এবং অ্যাপের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে এক হাজার ৬০৪ জন বেকার যুবকদের ডাটাবেজ গঠন করা হয়েছে।
সূত্রমতে, এ কর্মসূচির আওতায় নারীদের কর্মে নিযুক্ত হওয়া এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সচেতন হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে ‘তথ্যআপা’র সহায়তায় উঠান বৈঠক পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে বেকারত্বের কুফল এবং বেকারত্ব দূরীকরণ বিষয়ক মোটিভেশনাল স্পিচ প্রদান করা হয়েছে।
সূত্রমতে, এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফকে প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শুক্লা সরকারকে সদস্য সচিব, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.জাহিদুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ ও সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুনকে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শুক্লা সরকার জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল লতিফ জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুবকদের সফলভাবে সম্পৃক্তকরণের নিমিত্ত তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে সর্বজনীনভাবে দক্ষ করে তোলা।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, ফ্রিল্যান্সিং করে নিজেদের পড়াশোনার খরচ বহন করার পাশাপাশি পরিবারকেও সাপোর্ট দিচ্ছে। একটা সময় বলা হতো, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রধান সমস্যা কিন্তু এখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা অভিশাপ না হয়ে একটা সম্পদ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/৩০/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
