শিক্ষার্তা ডেস্কঃ চোখ-মুখ জুড়ে কেবলই হতাশা, অপ্রাপ্তি আর বিষণ্নতার ছাপ। জেঁকে বসেছে সংসারের অজস্র চাহিদাও। বুকের ভেতরে কষ্টের দগদগে ক্ষত নিয়ে বেশ আনমনা হয়ে গেছেন শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান। বয়সও ফুরিয়ে আসছে তার। কণ্ঠে আর উচ্চারিত হয় না জ্ঞানের বাণী। শিক্ষক মাহাবুবুর এখন মুদি দোকানি।
প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না-হওয়ায় এক সময় বেছে নিয়েছিলেন নির্মাণ শ্রমিকের কাজ। বিশ্ব মহামারি করোনায় সেই কাজ হারিয়ে বাড়ির পাশের ছোট্ট দোকানই এখন একমাত্র ভরসা। তার চোখ দুটো আর স্বপ্ন দেখায় না, দেখে না স্বপ্নও। কষ্টের আবরণে ঢাকা পড়া অশ্রুসিক্ত চোখ জোড়া। নির্বাক হয়ে কেবলই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেন পণ্য। মানুষ গড়ার এই কারিগর জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন এই মুদির ব্যবসা। বয়সের অন্তিম লগ্নে এসে শুরু করেছেন জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়।
মাহাবুবুর রহমান নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জয়ন্তিপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক। প্রায় দুই যুগ তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ঠিকই কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতা তাকে মর্যাদার পরিবর্তে দিয়েছে তিরস্কার। এমপিওভুক্তির আশায় ছিলেন বছরের পর বছর। বার বারই ভেঙেছে আশা, পেয়েছেন বঞ্চনা। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলেও ৪৮ বছরের পুরানো তার প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়নি। এখন দোকানের সামান্য আয় দিয়েই কোনমতে ছেলে-মেয়ের পড়ার খরচ এবং সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
কথা হয় শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও মা-বাবাসহ ছয় সদস্যের সংসার। ২০০০ সালে শিক্ষক হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিই। ২২ বছর অতিবাহিত হলেও বেতন পাইনি।’
এ বিষয়ে জয়ন্তিপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট রবিউল ইসলাম জানান, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বিনা বেতনে শিক্ষকরা চাকরি করে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি সরকার ঘোষিত তালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানটির নাম না থাকায় আপিল করেছেন। বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান মুদির দোকান করেছেন। তার মতো শিক্ষকদের এমন করুণ পরিণতি চান না তিনি।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২০/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
