শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জাত-পাতের ধুয়ো তুলে হরিজন সম্প্রদায়ের পাঁচ শিশুকে স্কুলে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গত ১ জানুয়ারি পার্বতীপুর শহরের ইব্রাহিমনগর ও জাহাঙ্গীরনগর মহল্লার হরিজন পল্লীর ওই শিশু শিক্ষার্থীদের শহরের দুটি সরকারি ও একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নিয়ে যান তাদের অভিভাবকরা। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে ভর্তি না করে শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান অভিভাবকরা।
এমন পরিস্থিতিতে হরিজন পল্লীর এ পাঁচ শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে তাদের ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ১২ জানুয়ারি পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে ভর্তি বঞ্চনার এ ঘটনায় শহরের দুই হরিজন পল্লীর প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্যের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির বর্ষা রানী বাসফোঁড় (১১) গত বছর বার্ষিক পরীক্ষায় আবদুল ওহাব কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। তার মা রুমকি বাসফোঁড় মেয়েকে মুজিবাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করতে নিয়ে যান। কিন্তু হরিজন সম্প্রদায়ের সন্তান হওয়ায় বর্ষাকে ভর্তি করে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। একইভাবে ইসিকা বাসফোঁড়কে (৮) নিয়ে তার বড় ভাই রাহুল বাসফোঁড় শহরের দক্ষিণপাড়ার বেসরকারি এফ রহমান কিন্ডারগার্টেন স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে, সাধনী বাসফোঁড়কে (৯) নিয়ে তার মা রিতা বাসফোঁড় একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে এবং জোসনা বাসফোঁড় (১০) ও গোবিন্দ বাসফোঁড়কে তাদের নিকটাত্মীয় কিরণ বাসফোঁড় আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করতে নিয়ে যান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জাত-পাতের অজুহাত তুলে তাদের ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় মুজিবাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মেরিয়া সুলতানা, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মল্লিকা রানী এবং এফ রহমান কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেনের সঙ্গে। তবে তারা তিনজনই হরিজন সম্প্রদায়ের সন্তান হওয়ায় পাঁচ শিশুকে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অবশ্য পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমাদুল হাসান হরিজন সম্প্রদায়ের ওই শিশুদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে নিজ নিজ শ্রেণিতে ভর্তি করে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৫/২৩
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
