অনলাইন ডেস্ক।।
আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনাল দেখে মুগ্ধতা কাটছে নাফুটবলপ্রেমীদের। সাবেক ফুটবলারসহ বোদ্ধারা তো লুসাইল স্টেডিয়ামের ফাইনালকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ফাইনালের মর্যাদা দিয়েছেন। ম্যাচটির পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিল রোমাঞ্চ। উত্থান-পতনে ফুটবলের রূপ-সুধা যেন ম্যাচে উপচে পড়েছে। যার পুরোটুকু দর্শকরা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন। এমন ফাইনালকে সেরা না বলে উপায় আছে!
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ৮০ মিনিট দুই গোলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় ঘুমিয়ে থাকা এমবাপ্পে শেষ ১০ মিনিট জেগে ওঠেন। দানবীয় দাপটে জোড়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে আবার মেসির গোলে লিড নেয় লাতিন আমেরিকানরা। এবারও সমত ফেরান এমবাপ্পে। ১২০ মিনিট ৩-৩ গোলে ড্র থাকার পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-২ গোলে শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা। মেসির জোড়া গোল, এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক, ডি মারিয়ার গোল, মার্টিনেজের দুরন্ত সেভ, পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক- কী ছিল না ফাইনালে! রীতিমতো দর্শকদের স্নায়ুর পরীক্ষা হয়েছে। তাই তো সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরার বিবিসিকে বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য এক ফাইনাল! এর আগে এমন কিছু আমি কখনোই দেখিনি। আমার ধারণা, আমরা এমন কিছু ভবিষ্যতে দেখবও না। এটা ছিল মুহূর্তে মুহূর্তে রং পাল্টানো এক ম্যাচ।’ পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ নিয়ে আরেক সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাগারের টুইট, ‘সর্বকালের সেরা ম্যাচ। এই ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছে, ফুটবল কেন সব খেলার সেরা। এটা একটা অল-টাইম ক্ল্যাসিক।’
আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার পাবলো জাবালেতা বিসিবিকে দুরন্ত এ ফাইনাল নিয়ে বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনাবাসী এখন থেকে একটি ছবি দেখব, সর্বকালের সেরা দুই ফুটবলার ম্যারাডোনা ও মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি! এটা সত্যিই দুর্দান্ত। আমরা খুবই ভাগ্যবান।’ এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। যেভাবে পুরো টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত খেলে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি, তাতে এ সম্মানটা তিনি প্রাপ্য বলেও মনে করছেন ইংলিশ সাবেক ফুটবলার গ্যারি নেভিল, ‘পুরো ক্যারিয়ারে প্রতিটি ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছে সে। যদি আপনি মেসির খেলা সরাসরি দেখে থাকেন, তাহলে আপনি ভাগ্যবান।’ ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জিতে ম্যারাডোনা যেমন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন, মেসিদের এই জয়ও তেমন প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করছেন নেভিল, ‘ছেলেবেলায় আমি ম্যারাডোনার ‘৮৬ বিশ্বকাপের কিছু ভিডিও ক্লিপস দেখতাম। এখনকার তরুণরা যারা আজ রাতের ম্যাচ দেখেছে, তারাও ফুটবলার হতে চাইবে। ফুটবলের সংস্কৃতিতে মিশে যেতে চাইবে।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
