নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সময় লাগবে দ্বিগুণ, আছে নানা চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক।।

পরিবর্তিত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শুরু থেকেই নানা সঙ্কট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে সরকার। যদিও বলা হয়েছিল ধাপেধাপেই বাস্তবায়ন করা হবে এই শিক্ষাক্রম, এখন অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে, পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সময়ের প্রয়োজন হবে।

ধারণা করা হচ্ছে সরকারের অনুমেয় সময়ের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে। একই সাথে দেশের ৩৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন অনেকটা অসম্ভবও মনে করা হচ্ছে।

প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ৩৩ হাজার স্কুলকে একটি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। যদিও পাইলট প্রকল্পের আওতায় এখন মাত্র ৬২ স্কুলে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের একটি নমুনা দেখানো হচ্ছে।

প্রথম দিকে অবশ্য ১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরো ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করে ২০০টি স্কুলে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় সেটি সম্ভব হয়নি। পরে মাত্র ৬২টি স্কুলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন ৩৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসাথে নতুন শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। তিনি বলেন, আমাদের নতুন কারিকুলাম তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সেটি পাইলটিং (পরীক্ষামূলক) চলছে।

তার ফিডব্যাক অনেক ভালো। ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলটিং করা যতটা সহজ, ৩৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেটি বাস্তবায়ন করা সহজ নয়, কারণ এতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র মতে, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে প্রায় চার লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এনসিটিবি মনে করে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মূল সেনানী হচ্ছেন শিক্ষকরা। সূত্র আরো জানায়, শিক্ষকরা এত দিন যে আঙ্গিকে শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তাদের শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষায় এই যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এ জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করার জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে এটাও অনেকটা সময় সাপেক্ষ। ফলে শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়েও অনুমেয় সময়ের বেশি ধরে নিয়েই এখন প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়ে বলা হয়েছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা যে বই হাতে পাবে, সেটিই একেবারে চূড়ান্তরূপ নয়। এর ওপর আরো কাজ করার আছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণে আরো পরিবর্তন নিয়ে আসা হবে।

নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের সময় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাক্রম যদি পুরোপুরি ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে আগামী পাঁচ বছর পর থেকে একটু পরিবর্তন দেখা যাবে। তবে এই পাঁচ বছর সময়ের মধ্যেই পুরোপুরি কাজ শেষ হবে না। আগামী ১০ বছর পরেই মূলত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।

নতুন কারিকুলাম পুরোপুরি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে পরিবর্তন রাতারাতি হয় না, সময় লাগে। কিন্তু যদি খুব ভালোভাবে করতে পারি তাহলে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমে শিখতে শুরু করবে। এর মধ্য দিয়ে তাদের পরিবারে চিন্তাগুলো চলে যাবে, চর্চাগুলো চলে যাবে। এতে আমরা একটা বড় পরিবর্তন আশা করতে পারি।

দেশের সবগুলো স্কুলপর্যায়ে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের নানা ধাপ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, উন্নত বিশ্বের সাথে দেশকে এগিয়ে নিতে স্কুলগুলোর সংস্কার নয় বরং রূপান্তর প্রয়োজন। দেশের ৩৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রূপান্তর করতে হবে। এ জন্য ৬২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলট প্রকল্প চলছে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.