নিউজ ডেস্ক।।
পাকিস্তানের মিডল অর্ডার নিয়ে শঙ্কাই সত্যি হলো। আবারও তাদের ব্যর্থতা। কিন্তু ওই যে, মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি। সঙ্গে শান মাসুদের ছোটখাটো ঝড়। স্কোর খুব বড় হয়নি, যা হয়েছে তা তাড়া করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে কোথাও একটা ঘাটতি, অভিজ্ঞতা আর ব্যাটিং গভীরতার অভাব। তাতে সেই পুরোনো ব্যর্থতার গল্প। ২১ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান- ২০ ওভারে ১৬৭/৫ (রিজওয়ান ৭৮*, বাবর ২২, মাসুদ ৩১; তাসকিন ২/২৫, মোস্তাফিজ ০/৪৮, হাসান ১/৪২, নাসুম ১/২২, মিরাজ ১/১২)
বাংলাদেশ- ২০ ওভারে ১৪৬/৮ (লিটন ৩৫, আফিফ ২৫, ইয়াসির ৪২*; ওয়াসিম ৩/২৪, নওয়াজ ২/২৫)
ফল: পাকিস্তান ২১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: রিজওয়ান।
রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেল, ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তানকেই আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ভ্রমণ ক্লান্তির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে বিশ্রাম দিয়েছিল বাংলাদেশ।
শুরুতে তাসকিন আহমেদের আঁটসাঁট বোলিং। প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান দেন তিনি। ক্রিজে পাকিস্তানের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলে, এই দুজনকে ফেরালেই ম্যাচ সহজ হয়ে যাবে বাংলাদেশের জন্য।
কিন্তু পরের দুই ওভারে বাবর দুটি করে চার মেরে বাংলাদেশকে শাসনের ইঙ্গিত দেন। চতুর্থ ওভারে ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। আইসিসির শীর্ষ র্যাংকিংধারী ব্যাটসম্যান দুই বল পরই রান আউট হতে বসেছিলেন। নন স্ট্রাইক থেকে দৌড়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন তিনি, বাংলাদেশি ফিল্ডার বল সময়মতো পাঠাতে পারেননি বোলার নাসুম আহমেদের কাছে।
৬ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৪৩ রান। অবশেষে মেহেদী হাসান মিরাজ বাংলাদেশকে স্বস্তি ফেরান নিজের প্রথম ওভারেই। সুইপ করেন বাবর, টপ এজে লেগে শর্ট ফাইন লেগে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে সহজে ধরা পড়েন তিনি। ২৫ বলে চারটি চারে ২২ রান করে আউট পাকিস্তান অধিনায়ক।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও পাকিস্তান পথ হারায়নি। শান মাসুদকে নিয়ে দলকে টানতে থাকেন রিজওয়ান। স্ট্রাইক অদলবদল করে দুজনে নিয়ন্ত্রণে নেন ম্যাচ। ১৩তম ওভারে বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় সাফল্যের দেখা। নাসুম আহমেদ মাসুদকে ৩১ রানে হাসান মাসুদের ক্যাচ বানান। ৪২ রান যোগ করে তিনি ফিরে যান প্যাভিলিয়নে।
তাসকিন আহমেদ দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। হায়দার আলীকে (৬) ইয়াসির আলীর দুর্দান্ত ক্যাচ বানান তিনি।
অন্য প্রান্তে রিজওয়ান ছিলেন অদম্য। ১৬তম ওভারে নাসুমের প্রথশ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৩৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। তাকে সঙ্গ দিতে নেমে ইফতিখার আহমেদ বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। হাসানের বলে আফিফ হোসেনের ক্যাচ হন তিনি ১৩ রান করে।
তাসকিন তার দ্বিতীয় শিকারের দেখা পান ১৯তম ওভারে। নিজের শেষ ওভারে আসিফ আলীকে (৪) ফিরতি ক্যাচে ফেরান তিনি। আগের ওভারে ১৬ রান দেওয়া মোস্তাফিজ করেন শেষ ওভার। তাকে এবারও ছেড়ে দেননি রিজওয়ান। প্রথম বলেই মারেন চার, পঞ্চম বলে মোহাম্মদ নওয়াজ লং অফ দিয়ে লম্বা ছয়। ওই ওভারে ১৩রান সহ ৪ ওভারে মোট ৪৮ রান দেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার।
রিজওয়ান ৫০ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে ৭৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
হাসানও ছিলেন খরুচে, ৪ ওভারে ৪২ রান দেন। তাসকিন ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার।
বাংলাদেশের জন্য অসাধ্য কোনও লক্ষ্য দিতে পারেনি পাকিস্তান। তারপরও পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারে ২ ওপেনার মিরাজ (১০) ও সাব্বির রহমানকে (১৪) ফিরিয়ে বড় ধাক্কা দেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও হারিস রউফ।
৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে টেনে তোলার ইঙ্গিত দেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন। ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৭৪ রান করে লড়াইয়ে ফেরে দল। তৃতীয় উইকেটে জুটির হাফ সেঞ্চুরিও হয়। কিন্তু ১৩তম ওভারে জোড়া ধাক্কায় বাংলাদেশের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ২ উইকেটে ৮৭ রান করা দলটি ১০১ রানেই হারায় ৬ উইকেট। ম্যাচ শেষ ওখানেই।
মোহাম্মদ নওয়াজ প্রথমে লিটনকে ৩৫ রানে হায়দার আলীর ক্যাচ বানান। নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ। নুরুল হাসান সিঙ্গেল নিয়ে পাকিস্তানি স্পিনারকে হ্যাটট্রিক করতে দেননি।
হাল ধরা আফিফও পরের ওভারে শাহনওয়াজ দাহানির শিকার। মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ক্যাচ দিয়ে তিনি মাঠ ছাড়েন ২৫ রান করে। ৯৯ রানে দলের অর্ধেক ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশ আর দাঁড়াতে পারেনি। ১৫তম ওভারে সোহান (৮) শাদাব খানের শিকার। ১০১ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান ফিরে যাওয়ার পর ১৯তম ওভারে ওয়াসিমের কাছে পরপর উইকেট হারান তাসকিন (২) ও নাসুম (০)। একপ্রান্তে আগলে রাখা ইয়াসির শুধু অন্যদের আসা যাওয়া দেখতে থাকেন।
শেষ ওভারে তিনি হঠাৎ করে জ্বলে ওঠেন, যখন দরকার ৪২ রান! সম্ভব না জেনেও তিনটি চার ও ছক্কা মেরে শুধু ব্যবধানই কমালেন। ২১ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি, এটাই সর্বোচ্চ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
