এমপিওর দাবিতে ১৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিভুক্তির দাবিতে আগামী ১৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন শিক্ষকরা। ওইদিন বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে শিক্ষকরা পদযাত্রায় অংশ নেবেন। এর আগে শনিবার (১২ অক্টোবর) পদযাত্রা কর্মসূচি সফল করতে জেলায় জেলায় বৈঠক করবেন শিক্ষক নেতারা।

ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার এডুকেশন বাংলাকে জানান, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তির দাবিতে আগামী ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে আমরা শান্তিপুর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচির পালন করবো। সারাদেশের ননএমপিও শিক্ষকরা পদযাত্রায় অংশ নেবেন।

দফায় দফায় আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবছরের মার্চে টানা ৫ দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। গত ২৪ মার্চ শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে এক মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এরআগে জানুয়ারিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা।

গতবছর ১০ জুন থেকে প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে লাগাতার অবস্থান নেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সরকার থেকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ২৫ জুন থেকে তাঁরা আমরণ অনশন করেন। এমনকি পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজও তারা রাজপথে আদায় করেন। ১১ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে ওইসময়ের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বৈঠক হয়। সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

বর্তমানে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৫ লাখ। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ মাসে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা। এর বাইরে স্বীকৃতি পাওয়া ননএমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। স্বীকৃতির বাইরে আছে ২ হাজারেরও বেশি ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতবছরের আগস্টে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ)- এর এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন জমা হয়েছে ৬ হাজার ৯০টি। ওই বছরের ১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট থেকে এমপিওবিহীন বেসরকারি স্কুল ও কলেজের কাছে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণের সব কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট নির্দেশকের ভিত্তিতে এমপিও- প্রত্যাশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপর এমপিওভুক্তি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এমপিওভুক্তির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকদের আন্দোলনের পর গতবছর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একযোগে এক হাজারের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে তালিকা অনুযায়ী যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণ করতে পারবে সেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.