নিউজ ডেস্ক।।
সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরে প্রায় ৩৮ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে বাজেট ঘাটতি পূরণে অন্যতম এ খাত থেকে। জানা যায়, বিদায়ি ২০২১-২২ অর্থবছরের পুরো সময়ে সঞ্চয়পত্রসহ জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া গত বছরে সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধ করেছে ৮৮ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। এতে অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা বাজেট ঘাটতি মেটাতে এ খাতের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৬২ শতাংশ। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ ছাড়া এই খাত থেকে গত কয়েক বছরে অতিমাত্রায় ঋণ নেয় সরকার। আর এতে করে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের সুদ বা মুনাফা বাবদ খরচও হয়েছে তুলনামূলক বেশি। এর ফলে গত বছর থেকে সরকার এ খাত থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু শর্ত আরোপ করে। এসব শর্তের ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয় জনগণ।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিমাত্রায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে সুদহার কমানো হয়েছে। আবার ঘোষণার বাইরে সঞ্চয়পত্র থাকলে জেল-জরিমানার বিধান করা হয়েছে। এ কারণে অনেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের জুন মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। ফলে জুন মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৪৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকার নিট ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করে। সেই হিসাবে ১২ মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ এসেছে ৬২ দশমিক ২৩ শতাংশ।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।
সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়লেও আরও কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় সম্প্রতি। এর মধ্যে সদ্য শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে গ্রাহকের আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে এ খাতের বিক্রি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুন মাসে ঘোষিত বাজেট উপস্থাপনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত মুনাফার ওপর নির্ভরশীল স্বল্প আয়ের মানুষের স্বার্থ সমুন্নত রেখে ১৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সীমাভেদে ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার হার কমানো হয়। এতে করে সঞ্চয়পত্র বাবদ সরকারের সুদ ব্যয় কমলেও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের ক্ষেত্রে মুনাফার হার একই থাকবে।’
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘স্বল্প-আয়ের লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চ সুদহারের সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হলেও অনেক উচ্চ আয়ের বিনিয়োগকারীরা এ স্কিমগুলোর সুবিধা নিচ্ছিল বেশি। সে কারণে আমরা ইতঃপূর্বে বিক্রয় ব্যবস্থাপনা অটোমেশন করেছিলাম। যার ফলে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষমতা সীমিত হয়েছে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও টিআইএন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।’
এদিকে সম্প্রতি জারি করা জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর ও সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ আইন, ২০২২-এর ৪৮ ধারা যথাযথ পরিপালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৪২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছিল সরকার, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতের নিট ঋণ ছিল ৪৯ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার ঋণ নিয়েছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিয়েছিল ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
সরকার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমাতে নানা ব্যবস্থা নিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সহজ করেছে শর্ত। সম্প্রতি সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহক যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। তা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
