এমপি কর্তৃক অধ্যক্ষকে পিটুনির তদন্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, “বুধবার অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে মারধরের ঘটনা জানার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব সরেজমিনে ঘটনা বিস্তারিত জেনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন উপাচার্য।”

“উপাচার্য বলেন, অধ্যক্ষ মারধরের ঘটনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে রাজশাহী নগরীর ‘ওমর থিম প্লাজা’য় নিজের চেম্বারে অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে ‘পিটিয়ে’ আহত করার অভিযোগ উঠে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ওইদিন সংসদ সদস্য ওমর ফারুকের ডাকে গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন কলেজের আটজন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে।

সেখানে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠকে ওমর ফারুক প্রথমেই অধ্যক্ষ সেলিম রেজার কাছে জানতে চান, তার কলেজের কতিপয় শিক্ষক আরেক কলেজের অধ্যক্ষ ও দলীয় নেতার স্ত্রীকে নিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলেছেন। অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

জবাবে অধ্যক্ষ সেলিম রেজা বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। যদি এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“এরপর সংসদ সদস্য তার ফোনের রেকর্ড অন করে কিছু একটা অধ্যক্ষ সেলিমকে শুনতে বলেন এবং তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেলিম রেজাকে ধরে তার বাম চোখের নিচে ঘুষি মারেন। উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে চেম্বারে থাকা হকিস্টিক দিয়েও আঘাত করেন,” বলেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

প্রায় ১৫ মিনিট পরে সেলিম রেজাকে এমপির কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যান আরেক কলেজের একজন অধ্যক্ষ। প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাঈদ আহমেদের চেম্বারে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্বজন ও সহকর্মীদের সহায়তায় নগরীর বাসায় ফেরেন সেলিম রেজা।

অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলছেন, ঘটনার পর থেকে লজ্জায় তিনি বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হওয়ার পাশাপাশি তিনি এখন আতঙ্কিত।‘পেটানোর’ পর এমপি ওমর ফারুক দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে ওই কলেজ অধ্যক্ষ দাবি করেছেন। তবে এমপি ওমর ফারুক পেটানোর অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।

রাজশাহীর কলেজ শিক্ষক সমিতি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবেন তারা।

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.