নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশমুখী, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, কমে গেছে রফতানি প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও নি¤œমুখী, ডলারের সাথে প্রতিদিনই টাকার মান কমছে, আর রেমিট্যান্সের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো, কারণ ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ নিচের দিকে এগোচ্ছে। অর্থনীতির এমন টানাপড়েনের মধ্যেই আজ জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করা হচ্ছে। বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করিয়ে নেয়া হবে।
এবার করোনার ধাক্কা সামলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের চতুর্থ বাজেট এটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটে প্রাধিকার পাবে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামের এবারের বাজেটটি প্রস্তুত হয়েছে সরকারের অতীতের অর্জন এবং উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে। এবারের বাজেটে সঙ্গত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি খাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশ কিছু খাতকে।
আগামী অর্থবছরের জন্য যে বাজেটটি উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে তাতে ঘাটতিই থাকবে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। জিডিপির অংশ হিসেবে যা সাড়ে ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপি ৬ দশমিক ১ শতাংশ হলেও সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য সরকারকে বেশি নির্ভর করতে হবে ব্যাংকিং খাতের ওপর। এই খাত থেকে নিট ঋণ নেয়ার লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।
এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৬৮ হাজার ১৯২ কোটি টাকা এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়া হবে ৩৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ লক্ষ্য ছিল ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ করার কারণে বেসরকারি খাত বিনিয়োগের জন্য ঋণবঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
আগামী অর্থবছরের ব্যাংকবহির্ভূত ঋণের মধ্যে শুধুমাত্র সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে বিদেশী ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিট ঋণ নেয়া হবে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা এবং ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে ১৭৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য মোট কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে যা ছিল তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। মোট কর রাজস্বের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায় করা হবে তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে আদায় করা হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং কর ছাড়া প্রাপ্তি থেকে আদায় লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআর খাতে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে তিন লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে তিন হাজার ২৭১ কোটি টাকা বিদেশী অনুদান পাওয়া যাবে বলে বাজেটে উল্লেখ থাকবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে চার লাখ ১১ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ দিতেই ব্যয় করতে হবে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। এই সুদের মধ্যে আবার দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয় হবে ৭৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের সুদ গুনতে হবে সাত হাজার ২০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয়ের জন্য ধরা রয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে দুই লাখ ৯ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জন্য জিডিপির আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু এই উচ্চাভিলাষী প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আগামী অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
