শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমাতে প্রতি বছর উপবৃত্তি দেওয়া হয়। কিন্তু এনআইডি সমস্যায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি তথ্য সার্ভারে এন্ট্রি চলছে। নতুন পদ্ধতিতে উপবৃত্তি তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাবা ও মা উভয়েরই জাতীয় পরিচয় পত্রের (এনআইডি) তথ্যদানের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা যাচ্ছে না। এতে অনেক খুদে শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এতিম শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। কারণ বাবা ও মায়ের এনআইডি কোনো ভাবেই দিতে পারবে না তারা।
জানা যায়, ১৬ মে থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি চলছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল বিভাগের তথ্য অন্তর্ভুক্তি শুরু হয়ে ২২ মে পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতেই সার্ভার জটিলতা ও এনআইডির সমস্যায় ওই তিন বিভাগের তথ্য অন্তর্ভুক্তির সময় ২৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। রোববার (২৯ মে) নাগাদ সার্ভার সমস্যা সমাধান হয়। কিন্তু এনআইডির সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনো বাবা-মায়ের এনআইডি ছাড়া বা যেকোনো একজনের এনআইডি না থাকলেও আবেদন করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বিদ্যালয়-১) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, যেসব শিক্ষার্থীদের বাবা-মা নেই, বা বাবা-মায়ের এনআইডি নেই বিদ্যমান সিস্টেমে তাদের তথ্য আপলোড করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে আমরা জানিয়েছি। তারা (অধিদপ্তর) এটি নিয়ে কাজ করছে।
চলতি বছরই এ ধরনের শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে এতিম শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনা যাবে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা হচ্ছে- কোনো শিক্ষার্থী যেন বাদ না পড়ে। আমরা এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে চাচ্ছি, যেন সবার উপবৃত্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়।
কী প্রক্রিয়ায় এ ধরনের শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করা যেতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি নিয়ে কাজ চলছে। আমরা আশা করছি এর সমাধান হবে।
নতুন নিয়মে উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্বে থাকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইএমডি বিভাগের পরিচালক বদিয়ার রহমান বলেন, যদি কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা না হয় সে বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে। আগে স্বাভাবিক নিয়মে তথ্যগুলো আপলোড হলেই বাদ পড়াদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এবার নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পাবেন। বিকাশসহ যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টেই তারা উপবৃত্তির টাকা তুলতে পারবেন। উপবৃত্তি কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট প্রাক্কলন অনুসারে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট অনুবিভাগ অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের নির্ধারিত কোডে টাকা বরাদ্দ করবে। অধিদপ্তর ত্রৈমাসিক চাহিদা মতো কিস্তিভিত্তিক টাকা অবমুক্ত করবে। অর্থ বিভাগ থেকে সময় সময়ে জারি করা জিটুপি পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসারে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হবে। জিটুপি পেমেন্ট পদ্ধতির সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বিত ডিজিটাল পদ্ধতির সমন্বয় করা হবে।
উপবৃত্তি পাচ্ছে না ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও:
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৩ মে থেকে উপবৃত্তি সুবিধাভোগীদের ডাটা এন্ট্রি করার চিঠিতে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে। এতে করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা নিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চলমান উপবৃত্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, দিন বদলের অঙ্গীকার নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে ও বাংলাদেশে ইসলামী চিন্তা ও চেতনা বিকাশের জন্য স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় মর্যাদা দিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ পাস করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা শিক্ষা নীতিমালা-২০১৮ অনুমোদন দেওয়া হয়। এজন্য শিক্ষক ঐক্যজোটের পক্ষ হতে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের এই ভয়াবহ মুহূর্তের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নিজ তহবিল থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের প্রণোদনা বাবদ যে সম্মানি অর্থ দিয়েছেন তা শিক্ষকসহ সব মহলে প্রশংসনীয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
